ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

১৯২১ সালে মাত্র তিনটি অনুষদ আর ১২টি বিভাগ নিয়ে যে বৃক্ষের চারা রোপিত হয়েছিল, আজ প্রায় এক শতকের দ্বারপ্রান্তে এসে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল মহীরুহে। বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কথা। সেদিনের সেই বিজ্ঞান অনুষদ এবং আজকের বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক—তার আঙ্গিক, অবয়ব, ব্যাপ্তি, অবকাঠামো—সর্বত্রই রয়েছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। তবে মানবিক আবেগ আর অনুভূতির মনোজগতে সেই পরিবর্তনের ঢেউ হয়তো ঠিক সেভাবে আঘাত করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর বিজ্ঞান অনুষদকে ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্নের জাল বোনার পালা শেষ হয়নি। এখনো প্রথম বর্ষের নবাগত ছাত্রছাত্রীরা অনাগত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সফলতার কথা স্মরণ করে, কম্পিত পদযাত্রায় এসে ভিড় করে কার্জন হলের বিশাল আর ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে, তাদের চোখেমুখে থাকে মুগ্ধ বিস্ময় এবং বিশ্বজয়ের বিহ্বলতা।

এই সুদীর্ঘ পদযাত্রায় বিজ্ঞান অনুষদের অবদান ও সফলতা অনেক। এখনো এই অনুষদ শিক্ষা, গবেষণা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতিতে দেশীয় পরিমণ্ডলে তার শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রেখেছে। তাহলে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের কোনো ব্যর্থতা নেই? কিংবা প্রায় সব বিষয়ে কি বিশ্বমানের সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের অবদান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে?

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে, অন্যান্য উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা বা বিফলতা কতটুকু? দেশের বাস্তবতা, রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আর আর্থিক প্রণোদনার কথা বিবেচনা করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে? আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনেই-বা তার সামগ্রিক অবদান বা সফলতা কতটুকু? এই প্রশ্নগুলো হয়তো প্রাসঙ্গিকভাবেই এসে যায়। কারণ, সময় এসেছে কেবল আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আত্মসমালোচনা করে বাস্তবতার সঙ্গে সামনের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষদগুলোকে সার্বিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তোলার।

আমাদের অজানা নয় যে বিজ্ঞানবিষয়ক যা কিছু হয়েছে বাংলাদেশে তার প্রায় সবকিছুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান এক নম্বরে। এটাই স্বাভাবিক। এখানে কিছু বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করব। আমি বিভিন্ন সম্মানিত শিক্ষকের কাছে ঋণী। কারণ, অনেকেই আমাকে বিভিন্ন উপাত্ত দিয়ে, সময় দিয়ে বিবিধ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে লিখতে সহায়তা করেছেন। এখানে অনেক কিছুই উপস্থাপন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, তাই সামান্য কিছু নমুনা মাত্র উল্লেখ করছি?

১. পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযাত্রা। বিগত ৯৫ বছরে এ বিভাগ জন্ম দিয়েছে বেশকিছু বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিজ্ঞানীর, যারা দেশ-বিদেশ থেকে বাংলাদেশের জন্য অনেক সুনাম বয়ে এনেছেন। জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটি তৈরি হয়েছে দেশের বিভিন্ন পদার্থবিদকে নিয়ে। জাতীয় পর্যায়ে এ সোসাইটি কয়েকটি কনফারেন্সের আয়োজন করেছে।

২. তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ১৯৭৫ সালে শুরু হয় কিন্তু কয়েক বছর পরই এ বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে ২০০৭ সালে আবার শুরু হয় এ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এ বিভাগেই একটি মাঝারি আকারের ক্লাস্টারড কম্পিউটিং সুবিধাসহ গবেষণাগার রয়েছে।

৩. গণিত বিভাগ অনেক গবেষণা করেছে। অনেক মেধাবী গণিতবিদ বের হয়েছেন এ বিভাগ থেকে। গণিত হচ্ছে বিজ্ঞানের প্রাণ। বাংলাদেশ গণিত সোসাইটি দেশে গণিতের প্রসারে বেশকিছু কাজ করে চলেছে। যেমন বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে গণিত বিভাগ আর অধুনা প্রতিষ্ঠিত ফলিত গণিত বিভাগ মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

৪. ফলিত গণিত বিভাগ মূলত গণিত বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। সপ্তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৫ আয়োজন করেছে এ নতুন বিভাগ। গণিত আর ফলিত গণিতের গবেষকরা গণিতের বিবিধ সমস্যার সমাধান আর গাণিতিক প্রয়োগ নিয়ে ভালো কাজ করে চলেছেন।

৫. রসায়ন বিভাগের কাজকর্মের ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত সারা দেশে। এসএসসি আর এইচএসসির রসায়ন সিলেবাস প্রণয়নে এ বিভাগের ভূমিকা রয়েছে। বিভাগটি ছয়-সাত বছর ধরে আয়োজন করে চলেছে ‘কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড’। এছাড়া বিভিন্ন সেমিনার ও কনফারেন্সেরও আয়োজন করেছে। ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি’ শুরু হয়েছিল এ বিভাগের শিক্ষক আর গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরে। রসায়নবিদদের ভালো-মন্দ দেখা এবং রাসায়নিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে এ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ভূমিকা। সর্বদা লক্ষণীয়। সরকারের বিবিধ কাজে অন্যান্য অনেক বিভাগের মতোই রসায়ন বিভাগেরও কাজ রয়েছে। যেমন গুঁড়া দুধে মেলানিন সমস্যার পর্যালোচনা এবং সমস্যাটির মোকাবেলায় এ বিভাগ সাহায্য করে থাকে। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কাজে পলিসি পেপার তৈরিতে আমাদের ভূমিকা সর্বোত্তম। বাংলাদেশে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ খাদ্য আইন কমিশন গঠনেও রয়েছে এ বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা। রাসায়নিক পদার্থের নিরাপত্তা আর সংরক্ষণ-সম্পর্কিত কাজেও রয়েছে এ বিভাগের অবদান। তাছাড়া তুলনামূলকভাবে এ বিভাগ থেকে দীর্ঘকাল ধরেই ভালো মানের গবেষণামূলক কাজ বেশি হচ্ছে। ফলে ভালো ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে বেশিসংখ্যক পেপার প্রকাশিত হচ্ছে।

৬. পরিসংখ্যান, বায়োস্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ দেশের অনেক সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যান-বিষয়ক কাজে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

৭. বায়োমেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ একটি ছোট্ট কিন্তু সুপরিচিত বিভাগ। কারণ, এ বিভাগের যাত্রার পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’-এ এদের নাম শোনা যায়। এ সময় এ বিভাগ থেকে নিজস্ব গবেষণার প্রদর্শনী চলে দিনব্যাপী। খুব কম বিভাগই এভাবে তাদের কর্মকাণ্ড সবার জন্য খোলামেলাভাবে দেখায়। এসব প্রদর্শনীতে থাকে বিভিন্ন বায়োমেডিকেল যন্ত্রপাতি, যা দেশে তৈরি করেছে এ বিভাগের ছাত্ররা। ইনোভেশনের ক্ষেত্রে এ বিভাগ এগিয়ে আছে অন্য অনেকের চেয়ে। মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম আর গবেষণাই এদের প্রধান কাজ। ২০১৫ সালে এ বিভাগ ও বাংলাদেশ মেডিকেল ফিজিকস অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে International Conference on Physics in Medicine and Clinical Neoroelectrophysiology শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে।

৮. বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগ একটি বড় বিভাগ, যার অবদান এ দেশে অনেক। বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন প্রফেসর কামালুদ্দিন আহমেদ স্যার, যিনি এ দেশের বায়োকেমিস্ট্রি ও নিউট্রিশন বা পুষ্টিবিদ্যার জনক। উল্লেখ্য, তিনি ছিলেন বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি Bangladesh Association for Advancement of Science-এরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া প্রফেসর কামালুদ্দিন Bangladesh Academy of Sciences, Bangladesh Biochemical Society, Nutrition Society-এর নেতৃত্ব দেন। তিনি Third World Academy of Sciences in Trieste, Italy-এর নির্বাচিত ফেলো ছিলেন, যা অনেক সম্মানের। তিনি ছাড়াও এ বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং আছেন আরো বেশ কয়েকজন বরেণ্য শিক্ষক ও গবেষক। আর্সেনিকের প্রভাব নিয়ে কাজ, জুট জেনোম প্রকাশ করা, সল্ট-টলারেন্ট ধানের জন্য গবেষণা, পুষ্টির বিবিধ বিষয় নিয়ে কাজ, বিভিন্ন রোগ নিয়ে গবেষণা, ব্রেনের ওপর পরিবেশদূষণের প্রভাব ইত্যাদি খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভালো কাজ করে চলেছে এ বিভাগ।

৯. Bangladesh Society for Biochemistry and Molecular Biology (বিএসবিএমবি) এবং Graduate Biochemist Association মূলত এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। এরা International Conference-এর আয়োজন করছে International Union of Biochemistry and Molecular Biology (IUBMB)-এর সঙ্গে মিলে। তাছাড়া এ পর্যন্ত সাতবার Biochemistry Olympiad-এরও আয়োজন করেছে। প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় পর্যায়েও নানা ধরনের কনফারেন্স আয়োজন করছে। ০ ফার্মেসি অনুষদের বিভাগগুলো প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপক সহায়তা করে যাচ্ছে। আবিষ্কার করছে নিত্যনতুন ওষুধ আর অসাধারণ মানবসম্পদ। এ বিভাগগুলোয় এমনিতেই একদম প্রথম সারির ছেলেমেয়েরা ভর্তি হয়ে থাকে। তারা দেশ-বিদেশে অনেক ভালো কাজ করে থাকে। দেশের ওষুধ শিল্পের কারিগর হচ্ছে মূলত ফার্মেসির গ্র্যাজুয়েটরা আর রসায়ন বা রসায়ন-সম্পর্কিত বিভাগের ছেলেমেয়েরা। এ দেশের ওষুধ শিল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফার্মেসি অনুষদের ছাত্র-শিক্ষকেরা।

১০. ভূতত্ত্ব বিভাগ এ দেশের খনিজ সম্পদ আবিষ্কার, সেগুলোর উত্তোলন, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনার মতো অনেক কাজ করে চলেছে। তাদের অবদান অকল্পনীয়। আমাদের যদি ভালো আর আধুনিক আরো যন্ত্রপাতি থাকত, তাহলে আমাদের দেশের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য বিদেশী বিশেষজ্ঞদের একদমই দরকার পড়ত না। ভূমিকম্প, রিমোট-সেন্সিং (GIS), হাইড্রোলজি ইত্যাদি বিষয়ে ভালো কাজ করছেন এ বিভাগের গবেষকরা।

১১. ইইই বা ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিকস ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৫১ বছর ধরে চলছে, যার নতুন নাম ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই)। বাংলাদেশের টেলিকম ও কমিউনিকেশন সেক্টরে এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা সর্বোচ্চ স্থানে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছে এ দেশের ইনফ্রাস্ট্রাকচার। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার গঠনে আরো অনেক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সেসবের প্রসারে এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা সবার শীর্ষে। এখন সরাসরি কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ দেশজুড়ে প্রসারিত হওয়ায় তার ভূমিকায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এর আগে এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের হাতেই গড়ে উঠেছিল একের পর এক ভালো ভূমিকাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাক্ষেত্র ইত্যাদি। এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন সময়ে দেশীয় উপকরণ ও সম্পদ ব্যবহার করে তৈরি করেছে আইপিএস, কন্ট্রোলার ইত্যাদি।

১২. বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস সোসাইটি গড়ে উঠেছিল এ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষকদের হাত ধরেই। এ সোসাইটি প্রায় বছরই একটি জাতীয় কনফারেন্সের আয়োজন করে। আরো বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু হয়ে ওঠেনি এখনো। এ সোসাইটি একটি জার্নাল অনিয়মিতভাবে প্রকাশ করে, যা দেশীয় মানের। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বরেণ্য কিছু ব্যক্তি আর কিছু তরুণ বাংলাদেশে প্রথম বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেন।

১৩. বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি গড়া আর একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল পথিকৃৎ হচ্ছেন এ বিভাগেরই শিক্ষক প্রফেসর এ আর খান। এ সোসাইটিরই উদ্যোগে বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অলিম্পিয়াড আয়োজিত হচ্ছে।

১৪. বাংলাদেশ সৌর সমিতি চালু হয়েছে আর এখনো তা মূলত নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এ বিভাগের শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন স্বনামধন্য শিক্ষকও এর সঙ্গে প্রাথমিক অবস্থা থেকে জড়িত থেকে একে গড়ে তুলেছিলেন। আজ এর যে সামান্য বা বেশি অবদানগত অগ্রগতি দেখি, তার মূলে তাঁদেরই কৃতিত্ব, তাঁদের নিরলস ও নিঃস্বার্থ পরিশ্রম আর আন্তরিকতা। আমাদের উচিত হবে এসব সোসাইটির সঙ্গে জড়িত হওয়া আর তাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

১৫. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শুরু হয় ১৯৯২ সালে। প্রফেসর এম লুত্ফর রহমানের অসাধারণ অবদান আর পরিশ্রমে গড়ে ওঠে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ। বাংলাদেশে কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রসারে তিনিসহ আরো কয়েকজন শিক্ষকের প্রভাব ছিল দিশারির। সারা দেশে আর বিদেশের ভালো ভালো জায়গায় আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা অনেক ভালো কাজ করছেন। এ বিভাগের ছাত্ররা বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে অগ্রণী ভূমিকা রাখে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সুনাম বয়ে আনে। মুনির-জুলিয়াসসহ আরো কয়েকজন যে উন্নত ধারা চালু করে গেছেন, তা এখনো বহমান। ১৯৯৬ সালে যখন গোটা বিশ্ব চেরনোবিল ভাইরাস নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় ছিল, তখন আমাদের এক শিক্ষার্থী এর ডেটা রিকভারি সফটওয়্যার সিস্টেম বের করে, যা দেশ-বিদেশে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঢাবির বিভিন্ন কাজেও এ বিভাগের শিক্ষকরা যথেষ্ট অবদান রাখছেন।

১৬. আইসিটি আর কম্পিউটার নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম কনফারেন্স চালু হয় এ বিভাগের শিক্ষকদের উদ্যোগেই, যেখানে আরো কয়েকজনের অবদান অপরিসীম। আইসিসিআইটি (ICCIT) কনফারেন্সটি শুরুর পর থেকে প্রতি বছর তা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯ বছর ধরে। ঢাবির আলমগীর হোসেন, এম লুত্ফর রহমান আর বুয়েটের কায়কোবাদ স্যারসহ আরো কয়েকজনের এ কনফারেন্স নিয়ে যে চিন্তা ছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে বলতে হবে, যদিও এখনো অনেক বেশি ভালো করার অবকাশ রয়েছে। বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের মতোই ঢাবির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ আর ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা দেশজুড়ে কম্পিউটার শিক্ষায়, এ-সম্পর্কিত ইন্ডাস্ট্রি গড়ায় আর কম্পিউটার সফটওয়্যারের আজকের এ অবস্থানে আসায় সর্বোচ্চ প্রভাব আর পরিশ্রম করেছে। এখনো বিরামহীনভাবে করে চলেছে। প্রকৃতপক্ষে, অতীতে প্রায় সব বিভাগেরই অগ্রণী ভূমিকা ছিল আর উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো অন্যরা অবদান রেখে চলেছে; কিন্তু যারা প্রথম শুরু করেছিল, তাদের জন্য অজস্র অভিবাদন।  বাংলাদেশে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং চালু করে। এ ডিগ্রির আওতায় শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায়, যেটি ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার কোলাবরেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন, যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সের মধ্যকার ফারাকটা ধরতে পারেন না। এ বিষয়ে ড. বি এম মাইনুল হোসেন স্যারের কিছু অভিমত নিচে উল্লেখ করা হলো। সফটওয়্যার ও ইঞ্জিনিয়ার্ড সফটওয়্যারের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। ইঞ্জিনিয়ার্ড সফটওয়্যার সিস্টেম্যাটিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করতে হয়, যাকে অনেকটা বাড়ি বানানোর সঙ্গে তুলনা করা চলে। আর্কিটেক্ট বা ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও বাড়ি নির্মাণ করা যায়, কিন্তু তাতে ডিজাইন, স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তা-সম্পর্কিত বেশকিছু ত্রুটি থেকে যায়। একইভাবে উপযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং করা না হলে সফটওয়্যারেও বেশকিছু ত্রুটি থেকে যায়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিতে সফটওয়্যার তৈরির মূল শিক্ষা, যেমন অ্যালগরিদম, প্রোগ্রামিং, ডেটা স্ট্রাকচার, ডেটাবেইস ইত্যাদি শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষা দেয়া হয় কী করে নিরাপত্তাগত বিষয়াদিকে মাথায় রেখে কাজ করতে হয়, ইউজারফ্রেন্ডলি বানানো যায়, কীভাবে কম রিসোর্স বা সম্পদ ব্যয় করে কাজ করা যায়, সর্বোপরি যত দূর সম্ভব ত্রুটিমুক্ত গুণগত সফটওয়্যার তৈরি করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ অনুসরণ করে বর্তমানে দেশের বেশকিছু জায়গায় (যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানো হচ্ছে। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ যখন সফটওয়্যার খাত থেকে বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সাবজেক্ট খুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু রাষ্ট্রের প্রতিই দায়িত্ব পালন করেনি, সঙ্গে সঙ্গে দূরদর্শিতার পরিচয়ও দিয়েছে। এ ব্যাপারে বলা বাহুল্য হবে না যে ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আয়োজিত বেশকিছু সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কম্পিটিশনে তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আশানুরূপভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এই ইনস্টিটিউট, কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইইই বিভাগগুলোর অবদান অনেক। এভাবেই আরো বেশি দক্ষ শিক্ষার্থীর জন্ম দিতে হবে, যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১৭. ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বাংলাদেশের পুষ্টিবিদ্যা আর খাদ্যের মান মূল্যায়নে অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলছে। জাতীয় নিউট্রিশন সার্ভের মাধ্যমে এ দেশে আয়রন-স্বল্পতা বা এনিমিয়া এবং ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রোগ আর সমস্যা বের করা এবং এসবের সমাধান বাতলে দেয়ার ব্যাপারে এ ইনস্টিটিউটের রয়েছে এক বিশাল অবদান। প্রফেসর কামালুদ্দিন আহমেদ স্যারের হাত ধরে এর মহান যাত্রা আর গবেষণা ক্ষেত্রেও রয়েছে এই ইনস্টিটিউটের প্রভূত অবদান। দেশের খাদ্য আর পুষ্টির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং এ-সম্পর্কিত বেশকিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান দিয়েছেন এই ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। যেমন খেসারির ডাল ভক্ষণজনিত ল্যাথারিজমের (lathyrism) মতো জটিল রোগের সমাধানে ভিটামিন সি-এর ভূমিকা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা এ ইনস্টিটিউটের কাজ। খাবারে আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। এর সমাধানে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা নিয়ে আসেন কীভাবে খাওয়ার লবণের সঙ্গে আয়োডিন মিশ্রণ করতে হয় এবং এভাবে তারা একটি ইউনিভার্সাল লবণ আয়োডিনকরণ প্রোগ্রাম প্রণয়ন করেন। বিগত ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জন্য উন্নতমানের একটি ফুড কম্পোজিশন টেবিল তৈরি করা হয়। খাদ্যের মান-সম্পর্কিত নানা ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় গবেষণা নিয়মিত চলছে এখানে, যেমন বাংলাদেশের ‘কি-ফুড’গুলোর মধ্যে আমিষের পরিমাণ আর তার গুণাগুণ নিয়ে ভালো একটি কাজ হয়েছে সম্প্রতি। তাছাড়া এ ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটরা দেশব্যাপী পুষ্টিবিদ হিসেবে কাজ করছে। অনেক আগে এসব নিয়ে ভাবার কেউ ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এই ইনস্টিটিউটের আবির্ভাবের পর থেকেই চলছে নিত্যদিনের খাদ্য বিষয়ে অনেক অবদানমূলক কাজ।

১৮. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যাত্রা শুরু হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কয়েক বছর পর। শুরুতে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত স্থান ছিল অসম্ভব অপ্রতুল। ফলে যেকোনো নতুন বিভাগের মতোই এ বিভাগের ক্লাস নেয়া বা ল্যাবের কাজ করানো অনেক দুরূহ ছিল। কিন্তু সূচনাকালের শিক্ষকেরা অনেক আন্তরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এ বিভাগকে একটি ভালো মানের দিকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও তাদের যোগ্যরূপে গড়ে তুলেছেন, যারা এখন মূলত বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে নিয়োজিত আছে। জাতীয় পর্যায়ে ডিএনএ প্রোফাইল করার জন্য এ বিভাগের অবদান রয়েছে। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের সঙ্গে পাটের জিনবিন্যাস আবিষ্কারে জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৯. নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ কয়েক বছর হলো চালু হয়েছে। তাদের প্রথম ব্যাচের প্রায় প্রত্যেকেই ভালো ভালো অবস্থানে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে এর অভাব ছিল। আর রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের জন্য, বলা যায় এদের অগ্রগণ্য ভূমিকা থাকবে।

২০. সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সদ্যই যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি অনেক জরুরি একটি বিভাগ। অনেক দেরিতে হলেও এর সূচনা দেশের অনেক কাজে লাগবে।

তা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিস্যু কালচার, ক্লাইমেট চেঞ্জ আর গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ের ওপরও আমাদের ভালো ভালো গবেষক রয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জ্ঞানী-গুণী গবেষক। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করা গেল না।

উপসংহার

তবে এ দেশে ভালো যা কিছু হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনেক। কিন্তু নিত্যনতুন আবিষ্কার সাধন, দেশের বিবিধ সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দেয়া কিংবা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে টেক্কা দেয়ার মতো প্রচুর গবেষণার কাজ হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দেশবাসী ও বিদেশী বন্ধুদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রকৃতপক্ষে, সারা দেশের সব বিদ্যাপীঠ থেকেই আমরা এই আশা ব্যক্ত করি যে আমরা দেশের আর বিশ্বের মঙ্গলের জন্য অনেক অবদান রাখব। কারণ, বাংলাদেশীরা অনেক মেধাবী আর পরিশ্রমী। আমাদের টেকনোলজি দরকার, তা মূলত আমরা বাইরে থেকে আনি অথবা কখনো কখনো আমরা দেশেই, তবে উন্নত বিশ্বের গবেষণার ফল অনুসরণ করেই তৈরি করি। নতুনত্বের বিচারে আমরা পিছিয়ে আছি। উন্নত মানের প্যাটেন্ট নেই বললেই চলে। রয়েছে বিশাল শূন্যতা। এ দৈন্যদশা প্রায় দেশজুড়েই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে ভালো অবস্থানে থাকলেও আমাদের আরো অনেক দূর এগোতে হবে। দৈন্যদশা যে ব্যাপক আর আমরা যে অনেক পিছিয়ে আছি, তা স্বীকার করতেও আমাদের কারো কারো মধ্যে হীনম্মন্যতা রয়েছে। সঠিক মনন আর পজিটিভ মনোভাব নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

আমাদের কাজ করতে হবে আরো আন্তরিকতার সঙ্গে। সরকারকে বোঝাতে হবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে অর্থ বরাদ্দ পায়, তা দিয়ে ভালো মানের একটা গবেষণাগার তৈরি করা আর প্রতি বছরের গবেষণার খরচ জোগানোই কঠিন। তাই অর্থের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতা বা সম্পর্ক অনেক বাড়াতে হবে। ইউনিভার্সিটি (U) আর ইন্ডাস্ট্রি (T) অর্থাৎ U&I-এই যোগসূত্রগত বন্ধন বাড়াতে হবে, যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিবিধ ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধানে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। আর ইন্ডাস্ট্রিও যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে R&D-তে অর্থের জোগান দিতে পারে। উন্নত বিশ্বের গবেষণার একটা বিশাল অবদান আসে ইন্ডাস্ট্রির অর্থ আর সাহায্য থেকে। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাকে দূরপ্রসারী কিছু সুপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

Eadmin

Related post