দেশ গঠনে শুধুমাত্র সুশিক্ষা নয়, অভিভাবকদেরও সংকীর্ণতার খোলস থেকে বের হতে হবে

দেশ গঠন তথা দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে দেশের শিক্ষিত এবং দক্ষ কর্মশক্তির ওপর। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার কারিগর। দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি শিক্ষার্থীদের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। দেশের চলমান এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে অসীম ধৈর্য, মেহনত, ত্যাগ আর তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলতে পারে একটা সুশৃঙ্খল সমাজ তথা সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র।

যেসকল উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে শিক্ষার্থীরা।

যেমন :  নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, বৃক্ষরোপণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, মাদকাসক্তির হাত থেকে তরুণসমাজকে রক্ষা করা ইত্যাদি।

May be an image of text

নিরক্ষরতা একটা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ। নিরক্ষর জাতি কখনো বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। সব দিক থেকে তারা বঞ্চিত ও অবহেলিত হয়। বহির্বিশ্বের পরিবর্তনের সঙ্গে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। তাই দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তাই সর্বপ্রথম দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে হবে। আর এ ব্যাপারে ছাত্ররাই পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে অবসর সময়ে গ্রামের অবহেলিত নিরক্ষর লোকদের বয়স্ক শিক্ষার আওতায় এনে একটুখানি অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন করে তুলতে পারে। ছাত্ররা পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে অনেক অবসর সময় পায়। তা ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ছুটি, রমজানের ছুটি, পরীক্ষার পরের ছুটি ইত্যাদিতে তারা গ্রামে গ্রামে নৈশ বিদ্যালয় খুলে পড়ানোর মাধ্যমে গ্রামের অশিক্ষিত লোকদের শিক্ষার আলো দান করতে পারে।

যেকোনো দেশের জন্য গাছপালা একটি মূল্যবান সম্পদ। গাছ থেকে আমরা ওষুধ পাই, জ্বালানি পাই, পাই নানা রকম ফলমূল। গাছপালা দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই যেকোনো দেশের শতকরা পঁচিশ ভাগ জমিতে গাছ থাকা দরকার। অথচ আমাদের দেশে গাছপালার সংখ্যা অত্যন্ত কম। তাই ছাত্ররা পারে অধিক হারে গাছপালা লাগিয়ে গাছপালার অভাব দূর করতে। ছুটির দিনগুলোয় তারা সবাই মিলে আশপাশের পতিত খালি জায়গায়, রাস্তার দুই ধারে, পুকুর পাড়ে, রেললাইনের ধারে গাছ লাগাতে পারে। গাছের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তারা গ্রামবাসীকে জানাতেও পারে। আমাদের দেশে যাতায়াত ব্যবস্থা তেমন উন্নত না। অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা বছরের প্রায় সময় ধরে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অর্ধভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকে। ছাত্ররা তাদের অবসর সময়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজেরাই গ্রামের ভাঙাচোরা রাস্তা কিছুটা সংস্কার করতে পারি। এতে তাদের স্কুলে যাতায়াতেরও সুবিধা হবে।

দেশের অধিকাংশ লোক নিদারুণ স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতায় ভোগে। রোগশোক এ দেশের মানুষের নিত্যদিনের সাথী। পরিবেশের অপরিচ্ছন্নতা, দূষিত পানি পান, স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, খাদ্য ও পুষ্টিমান সম্পর্কে অজ্ঞতা এর অন্যতম কারণ। ছাত্ররা গ্রামবাসীকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারে। আজকাল পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয়ে আলোচনা লিপিবদ্ধ থাকে। সাম্প্রতিককালে মাদকাসক্তি তরুণ সমাজকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং এর ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পারে। এভাবে ছাত্ররা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অবশ্য সেবার কাজে তাদের অনেক অসুবিধারও সম্মুখীন হতে হবে। দেশের সেবামূলক কাজ করতে হলে এবং দেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হলে অনেক সময়ের দরকার। কিন্তু ছাত্রদের হাতে সময় অনেক কম। কারণ পড়াশোনা নিয়েই তাদের অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই দেশসেবার সময় তাদের হাতে কম। যখন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে, তখন তারা অনেক সময় পায়। কিন্তু স্কুল বা কলেজ খোলা থাকলে দেশসেবার জন্য অধিক সময় ব্যয় করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ছাত্ররা সাধারণত বয়সে তরুণ, তাই তাদের দেশ গড়ার কাজে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং পরিচালনার জন্য এখনই সময় সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার।

অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে ছাত্ররা দেশ গড়ার অনেক মহৎ কাজে অগ্রসর হতে পারে না। রক্ষণশীল অভিভাবকরা ছাত্রদের কেবল পড়াশোনার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে চান। তাই ইচ্ছে থাকলেও ছাত্ররা দেশের সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পারে না। অভিভাবকদের এই সংকীর্ণতার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশ গঠনে ছাত্রদের সহায়তা ও উৎসাহ দিতে হবে। তবেই ছাত্ররা হবে দেশ গঠনের আদর্শ কারিগর। ঘটবে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন।

Eadmin

Related post