অনুপ্রেরণার গল্পঃ কোথাও চান্স না হলেই হতাশা নয়,সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা আর আল্লাহ্‌র প্রতি ভরসাই আনবে সফলতা

“এডমিশন কথন ” আমি HSC 2020 ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং এ ইচ্ছে থাকায় অন্য সবার মত আমিও  ইন্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি ছিলাম। প্রিপারেশন আল্লাহর রহমতে ভালোই ছিল।কোর্স যখন প্রায় শেষের দিকে তখন হঠাৎ একদিন বুয়েটের সার্কুলার দিলো। আমাদের সময় যেহেতু HSC হয় নাই সেহেতু SSC এর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গনিত এ ২৭০ নম্বর চাইলো। কিন্তু আমার পদার্থবিজ্ঞানে ৯২, রসায়নে ৮৬,সাধারণ গণিতে ৮৬,উচ্চতর গণিতে ৯৬ নম্বর ছিল৷ বুয়েটে সাধারণ গনিত কাউন্ট করায় আমার ২৭০ মার্কস আসে নাই। ফলে বুয়েটে এক্সাম দিতে পারি নাই।

বুয়েটের সার্কুলার দেয়ার কিছুদিন পরই গুচ্ছ ইন্জিনিয়ারিং এর সার্কুলার দেয়। তারা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, ইংরেজিতে মোট জিপিএ ২০ চায়(মানে ৪ সাবজেক্টে এ প্লাস চায়)। আমার শুধুমাত্র ইংরেজিতে এ প্লাস ছিলো না। কেন ছিল না সেটাও আজব ঘটনা। এস.এস.সি তে ইংরেজি ১ম পত্রে ৬০ পাই, ২য় পত্রে ৮৯ পাই। ১ম পত্রে ৬০ পাওয়ার মত এক্সাম আমি দেই নাই।যে ছেলে ২য় পত্রে ৮৯ পায় তার কি ১ম পত্রে ৬০ পাওয়ার কথা? যাই হোক ইংরেজিতে এ প্লাস না থাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছে আবেদন করতে পারি নাই। বুটেক্সে আবেদন করতে পারলেও যাদের ইংরেজিতে এ প্লাস ছিল না তাদের কাউকেই এক্সাম দিতে দেয় নাই। চিন্তা করা যায় ওই অবস্থাটার কথা? করোনার জন্য দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় নিয়ে প্রিপারেশন নিতে হচ্ছিল।এতদিনের চেষ্টা, পরিশ্রম, ধৈর্য্য সব কি তাহলে বৃথা গেল? এত কষ্ট করে ইন্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিলাম বাট ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটির একটাতেও এক্সাম দিতে পারি নাই। সত্যি কথা বলতে ওই সময় যখন জানতে পারি এতগুলো জায়গায় এক্সাম দিতে পারব না তখন খারাপ লাগসে ঠিকই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর রাগও হইছে। বাট আমি ভেঙ্গে পরি নাই।এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি অনেক বড় রহমত। যদিও তখন ডিপ্রেশনের যাওয়ার জন্য, হাল ছেড়ে দেয়ার মত হাজারটা কারণ আমার ছিল।কিন্তু আমার কাছে মনে হইছে যে আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে। হয়ত আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্যরকম।

যাইহোক মনে অনেক জিদ চাপলো। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে ভার্সিটির প্রিপারেশন নেয়া শুরু করলাম। ইন্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নেয়ায় বেসিক স্ট্রং ছিল। কিন্তু বায়োলজির অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। ধুমায়ে বায়োলজি পড়া শুরু করলাম। ভার্সিটি প্রশ্নব্যাংক বেশ সহজই লাগছিলো। মুলত ভার্সিটি প্রশ্ন সহজই হয়। কিন্তু অল্প সময়ে বেশি প্রশ্ন ক্যালকুলেটর ছাড়া উত্তর করা লাগে।এখানেই মূল কম্পিটিশন হয়। পড়া শুরু করার আগে আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম। বিশ্বাস করেন দোয়ায় খুলে গোপন দরজা। আপনি চাইতে দেরি করবেন কিন্তু আল্লাহ দিতে দেরি করবেন না। সবুর ➕ দোয়া ➕ হার্ডওয়ার্ক  = সাকসেস।

সবার প্রথমে অক্টোবরের ১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু এক্সামটা ভাল হলো না। এক্সাম হলে অনেক নার্ভাস হয়ে গেছিলাম। এক্সাম দিয়েই বুঝলাম চান্স হওয়ার পসিবিলিটি অনেক কম। অক্টোবরের ৪ তারিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিলো। আল্লাহর রহমতে এক্সাম ভালো হয়। এক্সাম দিয়ে বের হয়েই আম্মুকে ফোন দিয়ে বলি ইনশাআল্লাহ চান্স হবে।কয়েকদিন পর রেজাল্ট দেয় আল্লাহর রহমতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৪৭ তম হই। এরপর সম্ভবত অক্টোবরের ১৭ তারিখে ছিল GST গুচ্ছ পরীক্ষা। মোটামুটি ভালোই হয়। আসলে প্রশ্ন টাফ হইছিল এক্সাম হল থেকে বের হয়ে দেখি কারো এক্সামই খুব বেশি ভাল হয় নাই। যাই হোক কয়েকদিন পর গুচ্ছ রেজাল্ট দেয়। মোট মার্ক ছিল ৫৩.২৫( ম্যাথ + বায়োলজি এন্সার করছিলাম)।প্রশ্ন টাফ হওয়ায় নম্বর কম উঠে। এই নাম্বার দিয়েই GST গুচ্ছে সাস্ট, জগন্নাথ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোবিপ্রবি,যবিপ্রবি,ইবি সবগুলায় চান্স হয় আল্লাহর রহমতে।

সবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি ছিলাম। সাস্টেও পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইন্জিনিয়ারিং এ সুযোগ হয়। কিন্তু পিএমই খুব ভাল সাবজেক্ট হলেও দেশে জব কম।যদিও বাইরের দেশে এর চাহিদা অনেক। কিন্তু ইচ্ছা ছিল ভাল একটা ইন্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে পড়া যেটার দেশে বিদেশে দুই জায়গায়ই চাহিদা আছে। এছাড়া বাসা ঢাকায় হওয়ায় MIST তে সেকেন্ড টাইম এক্সাম দেয়ার জন্য প্রিপারেশন নিতে থাকি।

আল্লাহর রহমতে MIST তে এক্সাম খুবই ভাল হয় (সেকেন্ড টাইমার হওয়ায় ৫ নাম্বার কাটার পরও ৭৮৩ তম হই) শেষমেশ সব ছেড়ে MIST তে এডমিট হই এবার। এই ছিলো আমার দীর্ঘ এডমিশন জার্নির গল্প। যদি বুয়েট, রুচুকুয়েটে বুটেক্সে এক্সাম দিতে না পারায় হতাশা, ডিপ্রেশন নিয়া পরে থাকতাম তাহলে আজকে হয়ত এই জায়গাগুলোয় চান্স হত না। আমাদের কাজ হল সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাওয়া। যেটা হবে না সেটার জন্য হা হুতাশ করার তো কোনো মানে নাই। আমার পক্ষে যা করা সম্ভব তার সর্বোচ্চটা করা, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহ ভরসা। আল্লাহ যেখানে রিজিক রাখছে সেখানেই হবে। এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আজকে যারা বুয়েটের সার্কুলার অনুযায়ী এক্সাম দিতে পারবে না তাদেরকে বলছি Hardwork always pays off.

Shafin Abrar Nafis
Military Institute of Science and Technology (MIST)

Eadmin

Related post