ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে ভর্তির প্রস্তুতি কিভাবে নিতে পারি?
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাবিতে পরীক্ষা দিয়েছি প্রায় ১২ বছর আগে। যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের আঙ্গিক (style) নিয়মিত পরিবর্তন হয়, তাই একেবারে পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় তার চাইতে কিছু কৌশলগত (strategic) ব্যাপার নিয়ে বলতে পারি। শুধু তাই নয়, আমি যেহেতু ক ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছি, আমার পরামর্শগুলো শুধু ক ইউনিটের জন্যই খাটবে মনে হয়।
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমে যেটি বুঝতে হবে সেটি হচ্ছে পরীক্ষাটি নৈর্ব্যক্তিক (multiple choice questions) বা এমসিকিউ। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান। একটি কঠিন সমস্যার সমাধান করলে যে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে তা নয়। সুতরাং ভর্তি পরীক্ষার জন্য এমনভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে যেন কঠিন একটি অংকের সমাধান করতে গিয়ে সময় নষ্ট না হয়।
ভর্তি পরীক্ষার জন্য সময়ের ভাগ-বাটোয়ারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় ৯০ মিনিটে ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য এক মিনিটেরও কম সময় থাকে। তবে চাইলেই সেটি সুন্দরভাবে (smartly) ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন ধরা যাক, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের প্রশ্নগুলোর জন্য খুব বেশী গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে হয় না। আমি একটি প্রশ্নের উত্তর জানি অথবা জানি না। সেক্ষেত্রে রসায়ন আর জীববিজ্ঞান দ্রুত উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে যেন পদার্থ আর গণিতের জন্য সময় বেশী থাকে। কেননা পদার্থ আর গণিতের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গাণিতিক সমস্যা থাকে। তার জন্য যত সময় বেশি পাওয়া যায়, উত্তর ঠিক হবার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি। সবচাইতে ভালো হয় এর জন্য বিষয়ভিত্তিক সময় ভাগ করে নিলে। এভাবে ভাগ করে কিছু মডেল পরীক্ষা দিলে আসল পরীক্ষার সময়ে সময়ের টান পড়বে না।
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বুয়েট বা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার চাইতে বেশ সহজ হয়। তার কারণ বুয়েট বা মেডিকেল যেমন দেশের সেরা বিজ্ঞানের ছাত্রদের বাছাই করতে চায়, ঢাবি সাধারণ আন্তঃবিষয়ক (interdisciplinary) বিশ্ববিদ্যালয় বলে ভিন্ন ধাঁচে একটু সহজ করে প্রশ্ন করতে হয়। প্রতি বিষয়ের ৩০ টি প্রশ্নের মাঝে ২০টি প্রশ্নই মোটামোটি সহজ থাকে। বাকি ১০ টি প্রশ্ন কঠিন হতে পারে। নিজেকে এমনভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে যেন ২০ টি সহজ প্রশ্ন চিনে উত্তর করে ফেলা যায়। দরকার হলে কঠিন প্রশ্ন বাদ দিয়ে আগে সহজ প্রশ্ন উত্তর করে ফেলতে হবে। সময় বাকি থাকলে এরপর কঠিনগুলো। বাকি যে ১০ টি কঠিন প্রশ্ন থাকে, তার মাঝে কিছু প্রশ্ন সময় নিয়ে সমাধান করতে পারলে সেটিও মেধাতালিকায় এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করে।
আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, নিজের সামর্থ্যকে (strength) ঠিকভাবে ব্যবহার করা। আমি জানতাম আমি পদার্থ আর গণিতে যতটুকু ভাল, রসায়ন বা জীববিজ্ঞানে ততটা ভাল নই। আর আমি যে বিষয়ে পড়তে চাই তার জন্যে রসায়ন আর জীববিজ্ঞানে পাশ করে পদার্থ আর গণিতে ভাল নাম্বার তুলতে পারলেই হবে। আমি সেটাই করেছি। জীববিজ্ঞানে নামমাত্র নম্বর নিয়ে পাশ করেও, গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানে ভাল করায় যে বিষয়ে পড়তে চেয়েছি সেটিই পেয়েছি।
স্কোর হিসেব করা। যেহেতু এসএসসি আর এইচএসসির পরীক্ষার ফল যোগ হয়, তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঢাবিতে আমি যে বিষয় পেতে চাই সেটি পেতে হলে ২০০ তে কত পেতে হবে। তারপরে এসএসসি আর এইচএসসি’র ফল বাদ দিয়ে যেটি থাকে সেটি অন্তত (minimum) পেতে হবে। এটা ধরে নিয়ে যে প্রশ্নের মান (easy or hard) আগের বছরের মত একই থাকবে। প্রশ্ন সহজ হলে সে নম্বর একটু বাড়তে পারে। কঠিন হলে উল্টোটা। যেমন আমার ক্ষেত্রে আমি জানতাম যে আমাকে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৫-৮০ পেতে হবে। আমি সেভাবেই পরিকল্পনা করেছি, সেই নম্বরই পেয়েছি, যে বিষয়ে পড়তে চেয়েছিলাম সে বিষয়েই পড়েছি।
সবকিছুর শেষে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মাথা ঠান্ডা রাখা। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষাতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলেই মেধাতালিকায় ১০০ থেকে ২০০ এগিয়ে যাওয়া যায়। অনেক সময় এমন হয় যে একটি বিষয়ের প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। এতে ভয় (panicked) না পেয়ে, মাথা ঠান্ডা রেখে যে বিষয়টির প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হয়েছে সেটি উত্তর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে যে বিষয়ের প্রশ্ন কঠিন হয়েছে, সেটি সবার জন্যই কঠিন হয়েছে। আর তাছাড়া কোনো বিষয়েই ৩০ এ ৩০ পাবার কোনো দরকার নেই। দরকার হলো সবাই যে নম্বর পাবে তার চাইতে বেশি পাওয়া যেন মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা যায়।







Visit Today : 72
Visit Yesterday : 756
This Month : 3784
Hits Today : 174
Total Hits : 3047111

