অনুপ্রেরণাঃ আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুনা
রুনা আক্তারের জীবনের গল্প অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা। অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে স্নাতক পর্যন্ত আসতে। তাঁর এই এগিয়ে চলার গল্প শোনা যাক ।
রুনা আক্তার জানালেন, ‘ছয় বছর বয়সে বাবা মারা যান। মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল আগেই। আমরা দুই ভাই-বোন বাবার কাছে থাকতাম। বাবাকে হারিয়ে তাই আমাদের কোনো ঠাঁই হচ্ছিল না। তখন আমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এক আত্মীয়ের বাসায়। শর্ত ছিল, সেই বাড়িতে টুকটাক কাজ করবো। বাড়ির ছোট ছেলেটাকে দেখেশুনে রাখবো, ওর সঙ্গেই স্কুলে যাব। কবে স্কুলে ভর্তি হব, সেই আশায় দিন গুনছিলাম। কিন্তু একদিন রোযার সময়, ইফতারের জন্য কিছু জিনিস কিনতে আমাকে নিচে পাঠান দাদি। আমি টাকাটা হারিয়ে ফেলি। তখন আমাকে মেরে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
কিছুক্ষণ থেমে রুনা আবার বললেন, ‘মনে আছে বৃষ্টি পড়ছিল। ছোট্ট আমি একা একা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম। এক ভদ্রলোক আমাকে তুলে এনে একজন শিক্ষিকার বাসায় আশ্রয় দেন। পরে নিয়ে যান পথশিশুদের উন্নয়নে কাজ করে, এমন একটি এনজিওর আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখান থেকে কীভাবে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এইউডব্লিউ পর্যন্ত পৌঁছেছি, পেছনে ফিরে ভাবলে আমার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগে। বাবা বলতেন, ‘তুমি পড়ালেখা করলে একদিন আমাদের জন্য একটা লাল গাড়ি কিনতে পারবে। আমরা গাড়িতে করে ঘুরব।’ স্বপ্ন দেখি, একদিন সত্যিই আমি সেই লাল গাড়ি কিনব। আর বাবার মতো করে সবাইকে স্বপ্ন দেখাব।’






Visit Today : 255
Visit Yesterday : 2096
This Month : 2351
Hits Today : 1717
Total Hits : 3042779


