শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিশেষ কৌশল
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় করোনা-পরবর্তী সময়ে ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়া রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
আর এই কৌশল মঙ্গলবার (৯ মে) আন্তর্জাতিক সামাজিকবিজ্ঞান জার্নাল ‘টেকনিয়াম’ আর্টিকেলটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই কৌশলের তাত্ত্বিক নাম দেয়া হয় বিয়েভিয়রাল পাবলিক পলিসি ইন্টারভেনশন। এর মূল কথা হলো ‘ সম্পৃক্ত করো ও ভালো কাজকে উৎসাহিত করো।’
এই কৌশলগুলোকে একাডেমিক্যালি ব্যবহার উপযোগী হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিহেভিওরাল পাবলিক পলিসির অধ্যাপক এলিসি মোসলে। গবেষণা সহযোগী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র আমরান হোসেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জিহাদী জানান, এই গবেষণামূলক কর্মসূচি তিনি নিজেই গ্রহণ করেন। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের দিকে আগ্রহী করতে, বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ও সহশিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সাতটি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়।
সেগুলো হলো ‘ভালো কাজ করো, ‘ইউএনওর অতিথি হও’, ‘এপ্রিসিয়েশন বোর্ড ও এপ্রিশিয়েশন বিলবোর্ড ’, ‘স্টুডেন্টস ওয়ান মিনিট শো’, ‘একটি গুণের চর্চা করি’, ‘সোনার বাংলাদেশ গড়ি’, ‘টক উইথ ট্যালেন্টস, ও ‘এঙ্গেজ এন্ড এপ্রিশিয়েট, । এই সব কৌশলের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ছোট ছোট ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়।
তিনি জানান, প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এই ছোট্ট অর্জনের জন্য তাকে এমপি বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার একটি ধন্যবাদপত্র পাঠাতে পারেন। একজন ছাত্র যদি ফুটবল খেলে ভালো করে বা ক্লাসে উপজেলার ভালো কাজের সঙ্গে বা ভালো ফলাফল করে কোনো খেলায় বা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাহলে তাদের একটি মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াত দেয়া যেতে পারে।
সুমন জিহাদী বলেন, মঙ্গলবার এরকম একটি দাওয়াতের আয়োজনও করা হয়েছিল। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করেন। ক্যারিয়ার নিয়ে আলাপ করেন। সেখানে স্টুডেন্টস ওয়ান মিনিট শো নামে আয়োজন করা হয়।
সুমন জিহাদী আরও জানান, স্টুডেন্টস ওয়ান মিনিট শো অনলাইনভিত্তিক বিজ্ঞান কন্টেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্ম। এখানে এক মিনিটে পানির তিনটি রূপ, সালোকসংশ্লেষণ অথবা গতির সূত্র ইত্যাদি বিষয়ে এক মিনিটে ছাত্রছাত্রীরা ভিডিও নির্মাণ করে। টিকটক, লাইকি, রিলস বা তথাকথিত বিনোদন প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে শিক্ষামূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হয়। রাস্তার ধারে বড় বড় বিলবোর্ডে সচরাচর আমরা পণ্যের বিজ্ঞাপন বা নায়ক নায়িকার ছবি দেখি। কিন্তু দুপিচাঁচিয়াতে বড় বড় বিলবোর্ডে কখনো কখনো স্কাউটার বা ভালো ছাত্র বা খেলোয়ারদের ছবি দেয়া হয়। তারাই সমাজের আসল হিরো ও সম্ভাবনা। এ সব কৌশলের মাধ্যমে দুপচাঁচিয়াতে গত আট মাসে স্টুডেন্ট ড্রপ আউট কমে গেছে। কমে গেছে বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জানান, এ বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলার স্কুল শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের থেকে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন উদ্ভাবনমূলক কাজে ব্যস্ত। স্কুলের প্রতি আগ্রহী হওয়া ও অন্যান্য সামাজিক কাজের প্রতি তারা আন্তরিক হয়েছে।







Visit Today : 318
Visit Yesterday : 598
This Month : 3274
Hits Today : 868
Total Hits : 3046003


