ঘর ভেঙেছে ঝড়ে, রাত কাটবে আশ্রয়কেন্দ্রে
ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে যখন ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে, তখন সাত সন্তান সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসেন কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা নাজমা আক্তার। ঝড় শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। ঝড়ে তাঁর ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে।
ছোট সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই নাজমা আক্তারের। তাই চিন্তা করছেন রাতটা উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে কাটাবেন। না হলে পরিচিত অন্য কারও বাসায় আশ্রয় নিতে হবে তাঁদের।
এখানকার নাফ নদীঘেঁষা গ্রাম জালিয়াপাড়া। এ গ্রামের ৭১ বছর বয়সী রহিমা খাতুনের ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তিনিও এসেছেন এই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণ বাঁচাতে। বাসায় রাতযাপনের মতো অবস্থা নেই। রাত কাটাবেন এক আত্মীয়ের বাসায়।
এ দুই নারীর মতো শাহপরীর দ্বীপের অনেক বাসিন্দা ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। বিশেষ করে জালিয়াপাড়া ও ক্যাম্পপাড়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। এখানকার বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশ্য ঝড়ের আগেই জালিয়াপাড়ার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়। তাই ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর এলাকায় প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগ আছে, এমন ভূখণ্ডের মধ্যে দেশের সর্বদক্ষিণের এলাকা এই শাহপরীর দ্বীপ। টেকনাফে সেন্ট মার্টিনের পর এ দ্বীপে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। গত শনিবার দিবাগত রাতে এখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেন। তবে সকালে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো দেখে অনেকে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। টেকনাফে সকাল থেকে ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাস। দুপুর ১২টার দিকে বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া আর সঙ্গে বৃষ্টি। বাতাস শুরু হওয়ার পরপরই শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা আবার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ফিরে আসেন। কয়েক ঘণ্টার ঝোড়ো হওয়া শেষে বিকেলের দিকে বাতাসের গতি কমতে থাকে। ঝড়বৃষ্টি হলেও এখানে জলোচ্ছ্বাস হয়নি। ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে ঝরে। গাছ পড়ে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এখনো ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব করেননি। তবে টেকনাফে পাঁচ-ছয় হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।






Visit Today : 246
Visit Yesterday : 598
This Month : 3202
Hits Today : 597
Total Hits : 3045732

