যুক্তরাজ্যের এমপিদের অঙ্ক ও ইংরেজি পরীক্ষায় লেজেগোবরে অবস্থা
মজার বিষয় হলো এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষায় ইংরেজি ও অঙ্কে পাস করেছে দেশটির ৭২ ও ৭১ শতাংশ পড়ুয়া। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্সের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেননি দেশ চালানোর ভার যাঁদের ওপর তাঁরা। এমপি এমা হার্ডি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘এই ধরনের পরীক্ষা নেওয়া খুব দরকার। যাতে আমরা ওই ছোটদের পরিস্থিতিটা বুঝতে পারি। জানতে পারি, কতটা চাপ থাকে ওদের ওপর।’
অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাতিলের জন্য পার্লামেন্টের সদস্যদের জন্য নেওয়া হয় মহড়া পরীক্ষা (মক টেস্ট)। এ পরীক্ষার আয়োজক ‘মোর দেন আ স্কোর’ নামের একটি প্রচার গ্রুপ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদদের মধ্যে শিক্ষা নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান রবিন ওয়ালকারও ছিলেন। এ বছর পুরো ইংল্যান্ডে ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্যাট (এসএটিএস) পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য এ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীরা এত কম বয়সে পরীক্ষার জন্য যে চাপে থাকে, তা রাজনীতিবিদদের মধ্য ছড়িয়ে দেওয়া। এ বয়সে ‘শুধু পরীক্ষা দিয়ে যে শিশুদের শেখা যাচাই করা যায় না’ সেটা বোঝাতেই এ মক পরীক্ষা বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
রবিন ওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর দল কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য ফ্লিক ড্রুমন্ড, গগণ মাহিন্দ্রা, লেবার পার্টির সদস্য ইয়ান বার্নি, ইম্মা লিওয়েল-বাক এবং গ্রিন পার্টির লেডি বেনেটসহ আরও অনেকেই স্যাটস পরীক্ষা দিয়েছেন।
ইয়ান বার্নি বলেন, ‘পরীক্ষা একেবারে ভয়ংকর ছিল। ছোটদের ওপর এ ধরনের মানসিক চাপের প্রভাব অপরিসীম। এই স্তরে (শিক্ষার্থী) স্যাটস (এসএটিএস) পরীক্ষা ছেঁটে যেতে পারে বা না দেওয়াই ভালো। আমি আনন্দিত যে আমাদের অনেক পার্লামেন্ট সদস্য পরীক্ষার সেই চাপ অনুভব করতে পেরেছেন।’
ওয়ালকার ১০ ও ১১ বছর বয়সীদের জন্য পরীক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার স্বীকার করেন। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা বাদ দিতে চান না। তিনি বলেন, পরীক্ষার একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার। তবে পরীক্ষাই সর্বোত্তম পদ্ধতি হয় নয়, তবে সুযোগও। পরীক্ষা কেবল যাচাইয়ের পদ্ধতি নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা কেমন সেটাও বোঝার মাধ্যম।
ওয়ালকারের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন ড্রুমন্ড। তিনি বলেন, ‘ব্যাকরণ পরীক্ষায় অনেক কিছু ছিল অপ্রয়োজনীয়। মূল্যায়ন করা উচিত, তবে সেগুলো এত বেশিভাবে উচিত নয়। এটি বেশ কঠিন পরীক্ষা ছিল। আমাদের ভাবতে হবে ভবিষ্যতের জন্য আসলে কী উপকার হবে। আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পাসের জন্য শিক্ষিত করছি না, আমাদের উচিত, তাদের শেখার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দেওয়া।’
উপমহাদেশেও পরীক্ষা নিয়ে এমন ঘটনা আছে। ‘বাংলার বাঘ’ খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একটি গল্প প্রচলিত আছে। কোনো এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন করার অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষককেই পরীক্ষার আসনে বসিয়ে ছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে লেখা শেষ করতে পারেননি ওই পরীক্ষক। সেই গল্পটা আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল ব্রিটিশ এমপিদের পাওয়া নম্বর।






Visit Today : 454
Visit Yesterday : 262
This Month : 2812
Hits Today : 1968
Total Hits : 3044860


