চিকিৎসায় জিন থেরাপির যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশে
দেশে প্রথমবারের মতো ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি’ রোগে আক্রান্ত এক শিশুর দেহে জিন থেরাপি প্রয়োগ করেছে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইন্সটিটিউট।
এই থেরাপির একটি ডোজের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ।
বিরল জন্মগত রোগ স্পাইনাল মাসকুলার এট্রফি। এটি একটি জিনগত রোগ। এতে আক্রান্তদের কোন মাংসপেশী কাজ করে না।
শরীরের মস্তিষ্ক, শিরা এবং মেরুদণ্ডের কোষ ক্ষয়ে যেতে থাকে। মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দেহের পেশিতে কাজের সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
এমনকি শ্বাস নেবার জন্য যে ফুসফুস, সেই পেশীও কাজ করে না। কিন্তু মস্তিস্ক থাকে সচল। তীব্র কষ্ট ভোগ করে দুই বছর বয়সের মধ্যেই মারা যায় বেশিরভাগ শিশু।
এর চিকিৎসাও বিরল। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এই রোগের জিন থেরাপির অনুমোদন পায় বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি- নোভারটিস।
যার একটি ডোজের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা। বিশ্বের খুব মানুষের পক্ষেই ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করা সম্ভব।
তাই, বৈশ্বিক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিশ্বের দুই জন মাত্র শিশুকে বিনামূল্যে এই চিকিৎসা দিয়ে থাকে নোভারটিস।
এখন পর্যন্ত বিশ্বের দুই হাজার ৩০০ ভাগ্যবান শিশু এই চিকিৎসা পেয়েছে। যাদের একজন বাংলাদেশের রাইয়ান। এর মধ্য দিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ।
রাইয়ান মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাইয়ানকে থেরাপির ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে দুরারোগ্য স্নায়ুরোগের এই ওষুধ শরীরে দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই রোগে জিন থেরাপি পাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন মারা গেছে।
শিশু রাইয়ানকে যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে তার প্রতি ডোজের দাম প্রায় ২২ কোটি টাকা। যা বিনামূল্যে দিয়েছে বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নোভারটিস।
তবে, জটিল আর বিরল এমন রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হলে দেশে গবেষণা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।





Visit Today : 450
Visit Yesterday : 262
This Month : 2808
Hits Today : 1917
Total Hits : 3044809


