সাধারণ জ্ঞান কি সত্যিই দরকার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ? ? ?
সাধারণ জ্ঞানের সঙ্গে মেডিকেলের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বছর মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের একটা প্রশ্ন এসেছিল—পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত? এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এটা মেডিকেলে পড়ার সময় কোনো কাজে কি আসবে? তাহলে শুধু শুধু এসব অদ্ভুত রকমের প্রশ্ন ভর্তি পরীক্ষায় কেন দেওয়া হয়? সাধারণ জ্ঞান এ জন্য রাখা হয়েছিল যে মেডিকেল শেষ করে কেউ কেউ বিসিএস দেন, তখন এটা লাগে। আমাদের দেশে বিসিএস প্রফেশনাল ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন হচ্ছে বাংলা-১০০, ইংরেজি-২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি-২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি-১০০, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা-১০০, নিজের পঠিত বিষয়-২০০ আর বাকি-২০০ নম্বর সাক্ষাৎকারে; মোট ১১০০ নম্বর। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় নিজের পঠিত বিষয় মাত্র ২০০ নম্বর আর বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ৩০০ নম্বর!
অনেকের মতে, বিসিএস পরীক্ষায় নিজের পঠিত বিষয়ের চেয়ে সাধারণ জ্ঞানের নম্বর বেশি বরাদ্দ দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক। সাধারণ জ্ঞানের নম্বর কমিয়ে নিজের পঠিত বিষয়ে নম্বর বাড়ানো দরকার। আর একটা কথা হচ্ছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নসংখ্যা অনেক কম। ইংরেজিতে নম্বর ১৫। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক দিয়ে কি একজনের ইংরেজির দক্ষতা যাচাই করা যায়? ওই দিকে জীববিজ্ঞান অংশ থেকে আসবে মাত্র ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই দুটি মিলিয়ে ৬০০ পৃষ্ঠার ওপরে। এত বড় সিলেবাস থেকে আসবে মাত্র ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক! তার ওপর নির্দিষ্ট কোনো বই নেই। উচ্চমাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান হিসেবে অনেক লেখকের লেখা বই অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্তত ৫০-১০০টি নৈর্ব্যক্তিক যদি আসে, তাহলে সেটা ঠিক আছে।
শুধু মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও থাকে ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক। তাই আমার প্রস্তাব, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নসংখ্যা আরও বাড়ানো হোক। একটা উদাহরণ দিই, একজন শিক্ষার্থী ৩০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা দিল, তারপর সেটাকে ৩ দিয়ে ভাগ করে ১০০–তে রূপান্তর করে তার সঙ্গে এসএসসি-এইচএসসির ফলাফলের ২০০ নম্বর যুক্ত করে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলো। এভাবে করলে অনেক ভালো হবে।
আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের মানবণ্টন হচ্ছে বাংলা-১০, ইংরেজি-১০, পদার্থবিজ্ঞান-২০, রসায়ন-২০, জীববিজ্ঞান-২০, গণিত-২০, আইসিটি-২০। বিভাগ পরিবর্তনের কোনো আলাদা ইউনিট রাখা হয়নি। বিভাগ পরিবর্তনের আলাদা ইউনিট রাখলে ভালো হয়। যেমন কোনো বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী যদি বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগে যেতে চান, তাহলে তাঁর বাংলা ও ইংরেজির দক্ষতাই আসল।
কিন্তু আমার প্রশ্ন, পদার্থবিজ্ঞান-রসায়নের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক? মানবিক বিভাগের মানবণ্টন হচ্ছে বাংলা-৪০, ইংরেজি-৩৫, আইসিটি-২৫। এটাকেই তো বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট বানানো যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের সাধারণ জ্ঞান বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, এর পরিবর্তে আইসিটি দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয় উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসের ওপর ভর্তি পরীক্ষা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যেহেতু সাধারণ জ্ঞান বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত।







Visit Today : 256
Visit Yesterday : 598
This Month : 3212
Hits Today : 719
Total Hits : 3045854

