শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক নথিতে অভিমত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কৌশলে ঘষামাজার মাধ্যমে ওই নথির সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছিল একটি জালিয়াত চক্র। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি মামলাও করা হয়েছিল। সম্প্রতি ঘষামাজা করা ওই নথি, যা একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে খোয়া গিয়েছে। এ ঘটনার তদন্তে এরই মধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাইফ সুজন।
গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তিনজনের নামের প্রস্তাব সংবলিত ওই নথিতে প্রধানমন্ত্রী অভিমত দেয়ার পর তা কার্যালয় থেকে বের করে জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলে দেয় একটি চক্র। পরে আবার সেই নথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়লে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ৫ মে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে মামলাটির তদন্তের ভার দেয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রউফ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নথিপত্র গায়েব হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কয়েক বছর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। যদিও কয়েক মাস আগে প্রতিবেদনটির প্রয়োজন পড়লে খুঁজে না পাওয়ায় পুনরায় কমিশন থেকে প্রতিবেদনের একটি কপি সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়। এরও আগে নর্থ সাউথের একজন উপ-উপাচার্যের নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি নথির কয়েকটি অনুলিপিও অদৃশ্য কারণে গায়েব হয়ে যায়। এমনকি উপ-উপাচার্য হিসেবে যিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন, তিনিও তার নিয়োগ-সংক্রান্ত চিঠিটি হাতে পাননি। এছাড়া চিঠির একটি অনুলিপি ইউজিসির চেয়ারম্যানকে পাঠানোর রীতি থাকলেও তিনি তা পাননি।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, নর্থ সাউথ টাকার বিনিময়ে তাদের অনেক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঢাকতে চায়। আমি দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতি একজন উপ-উপাচার্যকে নিয়োগ দেয়ার পরও যোগদান করতে দেয়া হয়নি। নিয়োগের চিঠিই গায়েব করে দেয়া হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার একটা কপি পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও পাইনি। ঘটনা জানার পর দাপ্তরিক প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ওই চিঠির একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছিলাম। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন নর্থ সাউথ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে শুনলাম সে প্রতিবেদন নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। এটা তো এক-দুই পৃষ্ঠার কাগজ নয় যে হারিয়ে যাবে। প্রতিবেদন ও সংযুক্তি মিলে কয়েকশ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন কীভাবে হারাল?




Visit Today : 10
Visit Yesterday : 598
This Month : 2966
Hits Today : 60
Total Hits : 3045195

