শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করলেন সোনিয়া-জান্নাত

জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসার ছাদে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের দুই হাত পুড়ে যায়। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি দুই হাতের কবজি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় তাঁকে। তখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পরে ২০২০ সালে আশুলিয়ার গাজিরচটের হাজী মতিউর রহমান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পান জিপিএ–৪.৭২।

শারীরিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান জান্নাতুল। তাঁর স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। তবে খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করা তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে। জান্নাতুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তিনি যেন আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। আমার পড়াশোনার খরচ দিয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করেন।’

পা দিয়ে লিখে সফল সোনিয়া

সোনিয়া আক্তারের জন্ম থেকে দুই হাত নেই। এ ছাড়া ডান পা বাম পায়ের চেয়ে ছোট। এই পা দিয়ে লিখে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। মানবিক শাখা থেকে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩। সোনিয়া লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হতে চান। সোনিয়া সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। সোনিয়ার বাবা পোশাকশ্রমিক শাহাদাত হোসেন বেশ কয়েক বছর থেকে পরিবার ছেড়ে আলাদা থাকেন।

আকলিমা আক্তার গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের সংসার ও তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। তিন ভাই–বোনের মধ্যে সোনিয়া সবার বড়, ছোট ভাই রাকিব হোসেন দশম শ্রেণিতে পড়ে ও ছোট বোন তানিয়া আক্তার পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সন্তানদের নিয়ে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আকলিমা। তিনি বলেন, ‘জন্মের পর মানুষের কটু কথায় অনেক কষ্ট পেয়েছি। পরে ভেবেছি, ওকে কারও বোঝা হতে দেব না। ছয় বছর বয়স থেকেই ওর পায়ে পেন্সিল দিয়ে লেখানোর চেষ্টা শুরু করি। এরপর পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করাই।’

নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান সোনিয়া। কৃত্রিম হাত লাগানো সম্ভব হলে আরও ভালো করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করে তাঁর। সোনিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সাধ্যমতো নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সহায়তা পেলে নিজের জীবনের পাশাপাশি দেশের জন্যও কাজ করতে পারব।’

Eadmin

Related post