স্বপ্ন সাংবাদিক হওয়া কিন্তু হয়েছেন নারী রেফারি

নেত্রকোনা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যখন নবম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন প্রথম অ্যাথলেটিকসে অংশ নেন সালমা। ১০০, ২০০ মিটার স্প্রিন্ট, লং জাম্প ও হাই জাম্পে নিয়মিত অংশ নিতেন। ২০০৮ সালে জাতীয় শিশু–কিশোর একাডেমির প্রতিযোগিতায় হাই জাম্পে ব্রোঞ্জও জিতেছিলেন তিনি।

স্টেডিয়ামে ছেলেদের সঙ্গে ফুটবলও খেলতেন। কিন্তু নেত্রকোনা জেলা ফুটবল দল না গড়ায় ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে পারেননি। সালমাকে রেফারিংয়ে আগ্রহী করে তোলেন এএফসির রেফারি ফেরদৌস আহমেদ। ক্যারিয়ারে প্রথম ম্যাচে সালমা ছিলেন চতুর্থ রেফারি। সেদিন নেত্রকোনার জেলা লিগের পুরুষ ফুটবলের ম্যাচ পরিচালনা করেন। সেই স্মৃতি মনে হতেই হেসে ওঠেন সালমা, ‘প্রথম ম্যাচে ভয় লাগছিল না। তবে একটু নার্ভাস ছিলাম। মাঠে কেউ বিরক্ত করেনি। নারী হিসেবে নয়, রেফারি হিসেবেই আমাকে সম্মান করেছিল ছেলেরা।’

ব্যক্তিগত কারণে দুই বছর রেফারিং ছেড়ে দূরে ছিলেন। কিন্তু আবারও তাঁকে ফুটবল মাঠে নিয়ে আসেন রেফারি মাহমুদ জামাল ফারুকী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ঝরল সালমার কণ্ঠে, ‘নাহিদ (মাহমুদ জামাল ফারুকী) ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আমি আবার অনুশীলন শুরু করি। দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা রেফারি হওয়ার পরীক্ষা দিয়ে পাস করি।’

রেফারি হতে পরিবার কখনো বাধা হয়নি; বরং বাবা শহর আলী সব সময় সমর্থন জোগাতেন। ২০২১ সালে কিডনি রোগে ভুগে মারা যান বাবা। এমন সুখবর শুনে যেতে পারেননি বলে সালমার খুব আফসোস, ‘বাবার কথা খুব মনে পড়ছিল। পরিবারে আমার পছন্দের মানুষ ছিলেন বাবা। টিভিতে বা পত্রিকায় আমার ছবি দেখলে খুব খুশি হতেন। বলতেন, “আমার ছেলে যা পারেনি, মেয়ে হয়ে তুই তা করে দেখিয়েছিস।”

বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেছে, গত সেপ্টেম্বরে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রেফারিং দিয়ে দেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেন সালমাও, ‘স্বপ্ন দেখার শেষ নেই। ফুটবলে মেয়েরা এগিয়ে গেছে। আমার স্বপ্ন, এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা করা, দেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরা। আসলে মুসলিমপ্রধান দেশের মেয়ে হয়ে রেফারিং করাটা খুব চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ফুটবলের মতো রেফারিংয়েও বাংলাদেশের মেয়েরা যে পারে, সেটা দেখিয়ে দিয়েছি।’

নারী বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেন সালমা, ‘সবে শুরু। এখনো অনেক দূর যেতে হবে। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে চাই।’

Eadmin

Related post