শিক্ষায় নারীর অগ্রগতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজের মতে, প্রাথমিকে মেয়ে শিক্ষার্থীর হার বেশি বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে হবে না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন জড়িত। তাই উচ্চশিক্ষাতেও যেন নারীর অংশগ্রহণ বাড়ে সে লক্ষ্যে নারীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অনেক অভিভাবক প্রাথমিক শিক্ষা দিলেও উচ্চশিক্ষায় মেয়ের জন্য বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না।
২০১৫ সালে পেশাদারি শিক্ষায় ৩৯, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে (১৬২টি) ৪৩, দাখিলে ৫৯, আলিমে ৫৪ শতাংশের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষায় মেয়ে শিক্ষার্থীর হার ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ।
ব্যানবেইসের সর্বশেষ ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৩ ধরনের পেশাগত শিক্ষায় ৫৪, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (ভকেশনাল) শিক্ষায় ২৫ শতাংশের কিছু বেশি, ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে (১৪৫টি) প্রায় ৪৪ এবং দাখিলে ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী মেয়ে
রাজধানীর বাসাবো এলাকায় স্বামীর সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ দোকানে চটপটি বিক্রি করেন এক নারী। স্বামী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। আর তিনি নিজে কখনো স্কুলের গণ্ডিতে পা রাখেননি। তবে পড়াশোনায় মেয়ের আগ্রহ দেখে ভর্তি করে দেন স্থানীয় এক স্কুলে। মেয়েটি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। মা-মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়েটি জানান, তাঁর আশপাশে পড়ালেখা দেখিয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। এমনও হতো, ঠিকঠাক বুঝে পড়তে না পেরে ফেলও করেছেন। কিন্তু মায়ের অনুপ্রেরণা ও শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি একপর্যায়ে ভালো ফল করতে শুরু করেন।
ব্যানবেইসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে মেয়েদের পাসের হার আড়াই গুণ বেড়েছে। ১৯৯০ সালে ৩০ শতাংশ মেয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাস করেছিল। ২০১৯ সালে পাস করেছে ৮৩ শতাংশের বেশি মেয়ে। ১৯৯০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাস করেছিল ৩১ শতাংশ মেয়ে। আর ২০১৯ সালে পাস করেছে প্রায় ৭৫ শতাংশ মেয়ে।
ছেলেমেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হারও দিন দিন কমছে। ২০০৫ সালে ৪৭, ২০১০ সালে প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। ২০১৯ সালে এ হার নেমে এসেছে প্রায় ১৮ শতাংশে।
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো ও ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি হাতে নেয়। শহর এলাকা বাদে ২৭ শতাংশ এলাকায় এ কর্মসূচি ছিল। ১৯৯৯ সালে পৌর এলাকা বাদে অবশিষ্ট ৭৩ শতাংশ এলাকার জন্য প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্রছাত্রীদের মাসে ২৫ টাকা হারে উপবৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। এখন প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ১০০ টাকা এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাসে ১৫০ টাকা হারে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত খোলা হয়েছে, সেসব স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাসে ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। মাধ্যমিকেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে স্নাতক (পাস) কোর্সের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হয়। বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ ছাত্রী ও ১০ শতাংশ ছাত্রকে এই উপবৃত্তি দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার দেওড়া পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্কুলে উপবৃত্তির কারণে ঝরে পড়া কমেছে এবং উপস্থিতি বেড়েছে। স্কুলের ৩৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মেয়ে। তাঁর এলাকায় প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির হার প্রায় শতভাগ।






Visit Today : 254
Visit Yesterday : 598
This Month : 3210
Hits Today : 675
Total Hits : 3045810

