শিক্ষাক্ষেত্রে লেখালেখির কৌশল
আরও কিছু প্রয়োজনীয় কথা। যেমন কাদের জন্য লেখা, সহজ ও সংক্ষিপ্ত উত্তর—সবার জন্য। গভীর গবেষণালব্ধ ফলাফল সিরিয়াস গবেষক ও একাডেমিকদের জন্য, নতুন চিন্তা বা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে, এমন কিছু ভাবনা তরুণ শিক্ষার্থীদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে যা প্রয়োজনীয়, তা নীতিনির্ধারকদের জন্য, সচেতনতা বাড়াতে সবার জন্য লেখা। তাহলে লেখা কি যা ইচ্ছা তাই লেখা, এবারও সহজ ও সরল উত্তর—না। প্রথমে ভাবতে হবে, যা লিখতে চাচ্ছি আসলেই তাতে বলবার মতো কিছু আছে কি। একই কথা বারবার লিখছি কি—তবে কখনো কখনো একই কথা বারবার বিভিন্ন জায়গায় বলতে হয়, সচেতনতা বাড়াতে।
কাজেই দেশের মানুষের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে, মানবসভ্যতার কল্যাণে লিখতে হবে, লিখে যেতে হবে—আমার আবেদনটা বিশেষত তরুণ প্রজন্মের কাছে, প্রত্যাশাও তাদের কাছে। লেখালেখি তাদের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, সর্বোপরি সৃষ্টির অপার আনন্দ। ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণে বাংলাদেশ পৃথিবীতে অনন্য—তিনটি বড় নদীবাহিত পলি দিয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় এ বদ্বীপের অবস্থান সক্রিয় ভূগাঠনিক অঞ্চলে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত বিপুল জনগোষ্ঠী। এ মানুষদের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগ, সমাজ, অর্থনীতি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব, বিজ্ঞান, ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ তথা সমস্যা ও সম্ভাবনা ইত্যাদি নানা বিষয়ে লেখার অফুরন্ত সুযোগ আছে—শুধু চোখ-কান খোলা রাখলেই হবে, সঙ্গে পড়াশোনার অভ্যাসটাও জরুরি, যা লেখালেখির জন্য সহায়ক।
* লেখক: ড. এ কে এম খোরশেদ আলম; ভূতত্ত্ববিদ গবেষক






Visit Today : 73
Visit Yesterday : 2096
This Month : 2169
Hits Today : 485
Total Hits : 3041547

