রঙে রঙে রঙিন চবি’র পুরো ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টের রাস্তা থেকে শুরু করে দেয়ালে দেয়ালে শিল্পকর্ম আঁকছেন শিক্ষার্থীরা। স্বেচ্ছায় এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তারা। তবে অভিজ্ঞতাহীন ও কাঁচা হাত হলেও নান্দনিক শিল্পকর্মই তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা। অনভিজ্ঞ হাতেই রঙিন হয়ে উঠছে পুরো ক্যাম্পাস।

তারা রংতুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিবাদ, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও দেশপ্রেম। শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে এই বাংলাদেশ সবার। কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই নেই এ দেশে। ছাত্রসমাজ একতাবদ্ধ হয়েছে সব অনিয়মের বিরুদ্ধে।

সেখানে স্থান পাচ্ছে তাদের গ্রাফিতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার ছাত্র রাজনীতি থাকবে না।

May be an image of text

চবির চারুকলা বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিনা ইয়াসমিন প্রমি বলেন, আমরা কয়েকদিনধরেই গ্রাফিতির কাজ করছি।ক্যাম্পাসের রাস্তায়, দেয়ালে বিভিন্নধরনের স্লোগান, আন্দোলনের ভাষা, স্বাধীনভাবে লিখছি। এতদিন স্বাধীনভাবে কোনো শিক্ষার্থী মুক্তচিন্তা প্রকাশ করতে পারেনি। কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী রাস্তায় লিখেছিল আন্দোলন নিয়ে সেই লিখাগুলো প্রশাসন থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল।আমরা এখন স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি।আমরা চেষ্টা করতেছি চবিয়ান সবাইকে যুক্ত করতে যাতে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে।এই একতাবদ্ধতা তৈরি হবে কাজের মাধ্যমে।আমরা গ্রাফিতির কাজ করার পরিকল্পনা করেছি অনেক আগে থেকেই।বৃষ্টির কারণে একটু দেরি হয়ে গেছে।আজকে আমরা অনেক সাড়া পেয়েছি শিক্ষার্থীদের।প্রায় ২০০জনের বেশি শিক্ষার্থী এসেছে গ্রাফিতির কাজের জন্য।এই বিষয়টা আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।

কারো মনে কোনো ধরনের নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা নেই। রাস্তায়, দেয়ালে অনেক রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্লোগান লিখা ছিল। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সেগুলো মুছে দিয়ে আন্দোলনের স্লোগানগুলো লিখা। আমাদের কাজ করার মতো মানুষ কম তাই একটু দেরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, চবিতে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী সবাই একসাথে সাড়া দিলে একদিনে ক্যাম্পাসকে রাঙিয়ে তোলা যেতো।আলপনা আঁকাছাড়া রাজনৈতিক চিহ্নগুলো মুছে দেওয়া সম্ভব হতো না।তাই আগে আলপনা আঁকা হয়েছে।ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে কেউ বাধা দেয়নি বলে জানান তারা।

সৈয়ব আহমেদ সিয়াম বলেন, ‘পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে আমরা চব্বিশে স্বাধীনতার নতুন সূর্য পেয়েছি। সত্য আর সুন্দরের কথা বলতে আমাদের আর বাধা নাই। আমরা বাংলা, ইংরেজি, আরবি সব ভাষায় গ্রাফিতি করার অধিকার রাখি। স্বাধীনতা আর অধিকারের স্লোগানে স্লোগানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলো ভরিয়ে দিয়েছি আমরা। তারপর, ‘চবিয়ান দ্বিনি পরিবার’ প্লাটফর্ম থেকে আমরা ভাবলাম, বাংলা আর ইংরেজির মতো আরবিতেও কিছু ক্যালিওগ্রাফি থাকুক এই ক্যাম্পাসে। যেই ভাবা, সেই কাজ। আমরা শাহজালাল হলের দেয়াল রাঙিয়ে দিলাম আরবি ক্যালিওগ্রাফির রঙে। অনেকেই ছবি তুলে পোস্ট করতেছেন এখন। এই তো স্বাধীনতা। সবাই বলতে পারছে, আঁকতে পারছে।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিপ্লবের চিহ্ন রাখতে অনেক গ্রাফিতি করেছি আমরা। চারুকলার ভাইবোনেরা সুন্দর সব আলপনা করেছেন। এই ক্যাম্পাসে তো আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসব ডিপার্টমেন্টও আছে। চব্বিশে তারুণ্যের এই বিজয়ে সবার অংশগ্রহণ রয়েছে। সবার চিহ্নই ফুটে উঠুক ক্যাম্পাসে। এই আশা নিয়ে শাহজালাল হলের দেয়ালে আমরা আরবি ক্যালিওগ্রাফি করেছি।

Eadmin

Related post