যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই, তখন একটা আইডেন্টিটি তৈরি হয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট)—দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন মেহরাজ হোসেন। তার কাছে কিছু জিজ্ঞাসাঃ

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আপনার অবস্থান ১ নম্বরে। কেমন লাগছে?
ভর্তি পরীক্ষার জন্য যখন পড়ালেখা করি, তখন কিন্তু আমাদের কোনো আইডেন্টিটি থাকে না। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই, তখন একটা আইডেন্টিটি তৈরি হয়। ফলাফল দেখে এই জিনিসটা কাজ করেছিল। যেহেতু প্রথম হয়েছি, একটা ভালো লাগা তো থাকেই। পরিবারও অনেক খুশি। পরিবার খুশি থাকলে নিজেরও ভালো লাগে।

এ ধরনের সাফল্য পেতে কী প্রয়োজন হয়
সাফল্য আসলে বলা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবে উঠলাম। যেকোনো একটা ইউনিটকে টার্গেট করে সেটার জন্য যদি অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যায়; যদি সম্ভব হয়, এইচএসসির আগে থেকে প্রস্তুতি পর্ব শুরু করা যায়, তাহলে এগিয়ে থাকা যায়। মূলত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুতি ছিল আমার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি সবগুলোরই প্রস্তুতি হয়ে যায়।

আপনার ভালো করার মূলমন্ত্রটা কী?
নিয়মিত পড়ালেখা করা। নির্দিষ্ট একটা বইয়ের ওপর ফোকাসড থাকা।

কোনো বিশেষ কৌশল ছিল?
কিছু জিনিস পড়তে গেলে কঠিন লাগে। মনে হয়, আজকে আর হবে না। এগুলো নিয়ে না ভেবে যেটুকু মাথায় ঢোকে, সেটুকুই পড়তাম। আবার দেখা যেত, ১০ ঘণ্টায় যা পড়েছি, অন্য একদিন ২-৩ ঘণ্টায় তা হয়ে যাচ্ছে। তখন বাকি সময়টুকু কঠিন যে বিষয়গুলো আছে, ওইগুলো রিভাইজ করতাম।

কোনো বিশেষ অভ্যাস বা গুণ, যা আপনাকে এগিয়ে রেখেছে?
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। খেলাধুলা নিয়েই থাকতাম তখন। খেলাধুলায় যেহেতু গণিতের অনেক বিষয় আছে। আবার অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স—এগুলোও গাণিতিক বিষয়। এ কারণে অন্যদের চেয়ে দ্রুত গণিত বুঝতে পারি।

ভবিষ্যতে যাঁরা পরীক্ষা দেবেন, তাঁদের কী পরামর্শ দেবেন?
এইচএসসির শুরু থেকে মূল বই (টেক্সট বুক) পড়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি কোনো সহায়ক বই অনুসরণ করলে ভালো কাজে দেয়। এইচএসসি শেষে দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর ওপর চর্চা করতে পারলে আমার মনে হয় অনেক সুবিধা হবে।

খেলাধুলার কথা বলছিলেন। খেলাধুলায় কি কোনো অর্জন আছে
স্কুলজীবনে অনেক খেলেছি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্টার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের অধিনায়ক ছিলাম। সেখানে রানার্সআপ হয়েছি। ২০১৮-১৯ সালে ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে থানা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এ ছাড়া ইস্পি ইন্টার স্কুল সিক্স-এ-সাইড টুর্নামেন্টে ঢাকা বিভাগে রানার্সআপ হই আমরা।

অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে কেউ ছিল?
আমার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়েছে। পরিবারে এ রকম কেউ থাকলে ছোটদের ওপর ভালো করার একটা চাপ কাজ করে। মোটিভেশনও থাকে যে বড়জন ভালো করছে, আমাকেও কিছু করতে হবে।

শিক্ষাজীবনে খারাপ সময় ছিল কোনো?
এসএসসিতে এ প্লাস পাইনি, ৪.৮৯ ছিল। তখন মানুষের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। একটা খারাপ লাগা ছিল, ভাবলাম সামনে ভালো কিছু করতে হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে ১৮তম, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ইউনিটে ৫৭তম হয়েছি।

কোথায় পড়বেন ঠিক করেছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস নিয়ে পড়ব। অ্যাকাউন্টিংয়ের প্রতি আলাদা দুর্বলতা আছে। গণিতের ওপর আগে থেকে ভালো লাগা কাজ করে। অ্যাকাউন্টিংয়ের অঙ্কগুলো নবম-দশম ও এইচএসসি পর্যায়ে পড়ে ভালো লেগেছে।

ভবিষ্যতে কী করতে চান
স্নাতক, স্নাতকোত্তর শেষে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি (সিএ) করার ইচ্ছা আছে। তারপর কোনো কোম্পানিতে হয়তো অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেব।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর রহমান(প্রথম আলো)

 

Eadmin

Related post