বিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিক কারণেই আম আগে-পরে পাকে
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়াগত কারণেই মূলত একেক জেলার আম একেক সময়ে পাকে। এ ক্ষেত্রে আমের জাত কোনো বড় বিষয় নয়। ফলে জাতের চেয়ে পরিবেশ ও আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী এলাকাগুলোকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে এ গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে। যেমন অঞ্চল-১: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি; অঞ্চল-২: যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা; অঞ্চল-৩: নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং অঞ্চল-৪: নওগাঁ, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়।
এসব অঞ্চলে আম উৎপাদন ও সংগ্রহের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত (মাটির আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও ভূ–উপগ্রহের তথ্য) সংগ্রহ করা হয়েছে। সব তথ্য-উপাত্ত যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায়, অঞ্চল-১–এ সবচেয়ে আগে আম পাকে। আর সবশেষে আম পাকে অঞ্চল-৪ এলাকায়।
গবেষণায় ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৌসুমে কোন আম কখন পাকে এবং ওই সময়ের আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে আম উৎপাদনের ওই চার অঞ্চলের ভৌগোলিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তাতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় এবং সেখানকার মাটির ধরনের কারণে গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা বেশি থাকে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালেও যে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়, তা ওই এলাকায় বেশি হয়। এই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানকার আম দ্রুত পাকে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানকার আম পাকতে দেখা গেছে।
কাছাকাছি সময়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য জুন পর্যন্ত সাতক্ষীরা, খুলনাসহ অঞ্চল–২–এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর আম পাকতে শুরু করে। ওই এলাকার ভূমির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, পানি ও মাটির ধরন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। মের শুরুতে ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়। এ ধরনের আবহাওয়া আম পাকার পক্ষে অনুকূল। ফলে ওই এলাকায় যে জাতের আমের চারা রোপণ করা হোক না কেন, সেখানকার আম মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য জুনের মধ্যে পেকে যায়।
উত্তরাঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে উঁচু বা পেছনে। সেখানকার মাটি মূলত লাল ও মিশ্র ধরনের। আর সেখানে বৃষ্টি শুরু হয় জুন থেকে। চলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফলে অঞ্চল–৩ ও অঞ্চল–৪–এর অন্তর্ভুক্ত উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে আম সবার শেষে পাকে।
তবে বেশ কয়েকটি জাতের আম কাছাকাছি সময়ে পাকে। যেমন ফজলি, বারি-৪। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ওই আমের জাতগুলো পেকে যায়। অন্যদিকে ল্যাংড়া, বারি-২ ও হাঁড়িভাঙ্গা একই সময়ে পাকে। এই জাতগুলো দুই থেকে ছয় দিনের ব্যবধানে পাকতে শুরু করে।






Visit Today : 55
Visit Yesterday : 2096
This Month : 2151
Hits Today : 279
Total Hits : 3041341


