পৃথিবীর প্রথম বই সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

আমরা আজ যে বই পড়ছি বা বই ঘিরে যে মেলার বা উৎসবের আয়োজন করছি, তা মোটেও এক দিনের ইতিহাস নয়। পৃথিবীতে মানুষ আসার অনেক পর যখন মনের ভাব প্রকাশে ভাষার বিকাশ হতে শুরু করে, সেই কথা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করতে পাথরের দেয়ালে লেখার প্রচলন শুরু করে মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় মানুষ আবিষ্কার করে কাগজ, কালি ও কলম। আর এসবের আবিষ্কারের বহু পর মানুষ তৈরি করতে সক্ষম হয় বই।

মস্তিষ্কের তথ্য আর জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে কিংবা মন বা আত্মাকে আলোকিত করতে সামান্য কাগজের অসামান্য লেখা বইয়ের জুড়ি সত্যি পৃথিবীতে আর কোনোটিই নেই। অথচ কাগজে ছাপা হয়ে বই কোনোদিন মানুষের হাতে হাতে ঘুরবে বা শেলফে শোভা পাবে, এমনটা খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ সালে কেউ হয়তো ভাবেনি।

খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ সালে প্যাপিরাস গাছের কাণ্ডের ভেতরের অংশ লম্বালম্বি পাতলা করে কেটে শুকিয়ে নিয়ে মিশরীয়রা তাতে লিখতে শুরু করে, যা গ্রিক আর রোমানরা হাজার বছর আগেই এই প্রযুক্তি রপ্ত করেছিল। এরপর  হেরোডোটাসের সময় লেখা হতো বাছুর, ভেড়া বা ছাগলের চামড়ায়। ১০৫ খ্রিষ্টাব্দে মোম দিয়ে বানানো সমতলে আর কাগজে লেখা বসেছে। চীনের মানুষ অবশ্য কিছু আগে থেকে জিনিসপত্র মোড়ানোর কাজে কাগজ ব্যবহার করত।

কাগজে লেখার সঙ্গে টুকরো ছবি জুড়তে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে।  চীনে ছবিসহ বই ছাপা হয়েছিল ৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে। এই সময়টায় ইউরোপেও চলছিল একই প্রচেষ্টা।

সর্বশেষ ১২৫০ সালে মিশরে আর ১৪৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি স্থানে অক্ষর বসিয়ে বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়। এশিয়ার এদিকটায় তখন গাছের বাকল, কলাপাতা বা তালপাতায় হস্তাক্ষরে পুথি লেখা হতো। তবে সেগুলো প্রথম ছাপানো বই হিসেবে ধরা হয় না।

পৃথিবীর প্রথম ছাপানো বইয়ের মর্যাদা দেওয়া হয় গুটেনবার্গ বাইবেলটিকে। ১৪৫৫ সালে শিল্পসম্মতভাবে তৈরি ৪২ লাইনের বাইবেল হিসেবে খ্যাত বইটির ২১টি কপি এখনো বিদ্যমান। কখনো বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হলে নিঃসন্দেহে ওগুলোই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বই।

Eadmin

Related post