নার্সিং ভর্তি প্রস্তুতি মানেই বিষয়ভিত্তিক ও মানসিক প্রস্তুতি

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যতগুলো ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা, এরপর নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা।

কারন মেডিকেলে পড়ার সুযোগ না পেয়ে অনেকে নার্সিং এ পড়াশোনায় এগিয়ে আসে। অন্যদিকে সেকেন্ড টাইম মানে গতবছরের অনেকেই এ বছরে পরীক্ষা দেবে এবং তারা অনেকগুলো সিট দখল করে নেবে। সব মিলিয়ে চান্স পাওয়াটা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে, যদি প্রথম থেকে ভালমতো পড়াশোনা না করতে পারো। মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবন রক্ষাকারী একটি প্রফেশনে যাওয়ার সুযোগ  পেতে হলে তোমাকে শতভাগ যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হবে।

নার্সিং পড়াশোনায় শুরুতে আছে তিনটা কোর্স:

১) বিএসসি ইন নার্সিং – ৪ বছর

২) ডিপ্লোমা ইন নার্সিং – ৩ বছর

৩) ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারী – ৩ বছর।

ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবে। বিএসসি ইন নার্সিং এ পড়াশোনা করতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থাকতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে মিলিয়ে মোট কমপক্ষে জিপিএ ৭ থাকতে হবে এবং এসএসসিতে জিপিএ কমপক্ষে ৩.০০ ও এইচএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং উভয় পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারীতে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসা, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা শাখার সবাই পড়তে পারবে, এসএসসি ও এইচএসসি এই ২টা মিলে জিপিএ ৬ লাগবে। একটিতে কমপক্ষে জিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে।

নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টনঃ

নার্সিং লিখিত পরীক্ষা: ১০০(এমসিকিউ), এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে: ৫০ (এইচএসসি প্রাপ্ত জিপিএ গুণিতক ৬ ও এসএসসি প্রাপ্ত জিপিএ গুণিতক ৪)। সর্বমোট ১৫০ নম্বর, পাশ নম্বর: ৪০।

বিএসসি ইন নার্সিংয়ে বিষয় ভিত্তিক মানবন্টনঃ বাংলা : ২০, ইংরেজি : ২০, গণিত : ১০, পদার্থ বিজ্ঞান : ১০, রসায়ন বিজ্ঞান : ১০, জীববিজ্ঞান : ১০, সাধারণ জ্ঞান : ২০।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও  ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি’তে  বিষয় ভিত্তিক মানবন্টনঃ বাংলা : ২০, ইংরেজি : ২০, গণিত : ১০, সাধারণ বিজ্ঞান : ২৫, সাধারণ জ্ঞান : ২৫।

নার্সিং কোথায় পড়বে?

বর্তমানে দেশে ৩২টি সরকারি নার্সিং কলেজে আসন সংখ্যা ২১০০ টি, পাশাপাশি ৪৬ টি সরকারি নার্সিং কলেজ এবং ইনিস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এ আসন রয়েছে ২৭৩০টি। ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারির জন্য ৬২ টি সরকারি নার্সিং কলেজ এবং ইনিস্টিটিউটে আসন রয়েছে ১৮৬৫টি। এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারি অনেক নার্সিং কলেজ এবং ইনিস্টিটিউটে নার্সিং পড়ার সুযোগ আছে। অন্যদিকে অর্থোপেডিকস, সাইকিয়াট্রিক, পেডিয়াট্রিক, সিসিইউ, আইসিইউ ও কার্ডিয়াক নার্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এক বছর মেয়াদী কোর্স চালু রয়েছে। নার্সিংয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোর্সের শেষে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আপনি একজন নার্সিংকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে পারে।

এখন আসি ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে। নষ্ট করার মতো সময় একদমই নেই। তাছাড়া এই পরীক্ষা হলো এমন এক পরীক্ষা যার কোনো শর্টকাট নেই। প্রস্তুতি নেয়ার আগে তোমাকে জানতে হবে যে তুমি যে স্বপ্ন দেখছ, সেটা আসলেই তোমার স্বপ্ন কিনা। অর্থাৎ সত্যিই তুমি নার্সিংএ পড়তে চাও কিনা এবং তার জন্য তুমি কতটা ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম করতে পারবে – এ প্রশ্নগুলো আগে নিজেকে করো। এরপর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করো।  নার্সিং এর জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দুই ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়। এক – বিষয়ভিত্তিক  প্রস্তুতি, দুই – মানসিক প্রস্তুতি। ভর্তি পরীক্ষা যেহেতু এমসিকিউ নির্ভর তাই প্রশ্ন নিয়ে তোমাকে প্রচুর নাড়াচারা করতে হবে। এখানে বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর আলোকে কিছু বিষয়ভিত্তিক টপিক শেয়ার করেছি, এগুলো দেখলে তোমার ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিঃ

প্রথমে বলে রাখি বিএসসি এবং ডিপ্লোমার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আলাদা হবে। তাই যারা এই লেখাটি পড়বে, তারা সেভাবে নিজের কোর্স অনুযায়ী প্রস্তুতি নিবে।

বাংলাঃ বিএসসি এবং ডিপ্লোমা উভয় পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে ২০টি।  গদ্য, পদ্য, লেখক পরিচিতগুলো ভালো ভাবে পড়বে। সাথে বিগত সালের নার্সিং ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বেশি করে পড়তে হবে। সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, শুদ্ধ বানান, ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণ, সন্ধি, বাগধারা, এক কথায় প্রকাশ, কারক ও বিভক্তি, সমাস, ণত্ব বিধান ও স্বত্ব বিধান, ধ্বনি পরিবর্তন, ধাতু, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, শব্দের শ্রেণীবিভাগ, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, পারিভাষিক শব্দ এগুলো থেকে বেশী প্রশ্ন আসে। এক্ষেত্রে ‘বাংলা বিচিত্রা’ বইটি খুব বেশিই সহায়ক হবে।

ইংরেজিঃ বিএসসি এবং ডিপ্লোমা উভয় পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে ২০টি। ইংরেজির জন্য বিগত সালের নার্সিং ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বেশি করে পড়তে হবে। ইংরেজির জন্য বেসিক গ্রামার থেকে বেশি প্রশ্ন আসে বিগত কিছু সাল থেকে এটাই বেশি হচ্ছে। সাধারণত এগুলো থেকেই প্রায় হুবহু প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়। তবে অনেক বেশি কঠিন প্রশ্ন এখানে হয় না। ইংরেজির জন্য বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে। এর জন্য তুমি ৮-১০ ক্লাসের যে ইংরেজি গ্রামার বই গুলো আছে সেগুলো পড়ে জ্ঞান আরও বাড়াতে পারো। তোমার কাছে যদি ৮-১০ ক্লাসের ইংরেজি বই না থাকে তাহলে পরিচিত অথবা আশোপাশে যেকোন লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতে পারো এবং বিগত সালের যেসব প্রশ্ন এসছে সেই প্রশ্নগুলোও পড়ো।

ইংরেজী বাধাধরা কোন সিলেবাস নেই। বেশি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো:  Article , Parts Of Speech, Antonyms, Right form of verbs, Tense, Transformation of sentence, Voice Change, Preposition, Synonyms, Degree of comparison, Spelling, Translation, Vocabulary, Gender, Tag question, Phrase and idioms, Group verb, Appropriate preposition, completing sentence থেকে প্রতিবছর প্রশ্ন আসে তাই এগুলোতে ভাল দক্ষতা থাকতে হবে। আর এগুলো সাজানো-গোছানোভাবে ‘English Bichitra’ বইটিতে পাওয়া যাবে।

গণিতঃ বিএসসি এবং ডিপ্লোমা উভয় পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে ১০টি। গণিত বোঝা ও অনুশীলনের বিষয়। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় গাণিতিক সমস্যা খুব কম আসে। কোনো Higher Math / উচ্চতর গণিত থেকে প্রশ্ন আসে না। বেসিক গণিত গুলাই বেশি আসে। মূল বই পড়ার সময় প্রতিটি অধ্যায়ের পাশে নিজের নোট লিখে রাখবে, এগুলো শেষ সময়ে তোমাকে সাহায্য করবে। গণিতে যেহেতু ১০ মার্ক তাই অনেক বেশি পড়াশুনা না করে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো ভালো ভাবে পড়ো। তোমার যদি ৮-১০ ক্লাসের বই সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই গণিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে। তাই বিগত সালে কিভাবে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নাও যেসব টপিক থেকে বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে: ত্রিভুজ, বৃত্ত, চতুর্ভুজ, শতকরা, লাভ ক্ষতি, বয়স সমস্যা সম্পর্কিত অংক, গড়, বিভিন্ন বীজগাণিতিক সূত্রাবলী, বিভিন্ন কোণ ও কোণের প্রকারভেদ, ঐকিক নিয়ম, সমাধান, উৎপাদক, মান নির্ণয়, সূচক, গসাগু, ধারা, লসাগু, সমীকরণ। জয়কলি প্রকাশিত ‘Varsity Math’ বইটি অবশ্যই শতভাগ সহায়ক হবে গণিত প্রস্তুতিতে।
পদার্থ বিজ্ঞানঃ শুধুমাত্র বিএসসিতে প্রশ্ন থাকবে ১০টি। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান অংশে অংকের চেয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন বেশি আসে। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের অনুশীলনী থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে। তাই প্রতিটি অধ্যায় পড়া শেষে সেই অধ্যায়ের অনুশীলনীতে যা যা আছে সব সমাধান করে ফেলতে হবে। এছাড়াও অধ্যায় শেষে ‘এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য নামের একটা অংশ আছে, সেটাও মুখস্থ করতে হবে। উদাহরণের গাণিতিক সমস্যাগুলোর নিয়ম ভালো করে রপ্ত করবে। গতিবিদ্যা, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, পদার্থের গাঠনিক ধর্ম, তরঙ্গ, আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব, তাপগতিবিদ্যা, স্থির তড়িৎ, চল তড়িৎ, জ্যৌর্তি বিজ্ঞান ইত্যাদি টপিক থেকে বেশী প্রশ্ন আসে।
রসায়ন বিজ্ঞানঃ শুধুমাত্র বিএসসি তে প্রশ্ন থাকবে ১০টি। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে রসায়ন অংশে নম্বর তোলাটাই বেশ কঠিন। প্রথম পত্রের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। আর দ্বিতীয় পত্রের ১ম, ৪র্থ, ৫ম অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় পত্রের ৩য় অধ্যায়ের ছোট ছোট অংকগুলো প্রায়ই আসে। রসায়ন অংশে ভালো করতে হলে রসায়ন দ্বিতীয় পত্রকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত এই অংশে জৈব যৌগ আছে যেটায় অনেকেরই সমস্যা থাকে। তাছাড়া কিছু বিক্রিয়া, রাসায়নিক বন্ধন, মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম, জৈব এসিড, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, অ্যালডিহাইড, হাইড্রোকার্বন, ল্যবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার, কর্মমুখী রসায়ন, পরিবেশ রসায়ন, জৈব রসায়ন ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে।

জীববিজ্ঞানঃ শুধুমাত্র বিএসসি তে প্রশ্ন থাকবে ১০টি। জীববিজ্ঞানে যদি তুমি সব উত্তর ঠিক করে আসতে পারো তাহলে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। প্রাণিবিজ্ঞান থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়, তাই প্রাণিবিজ্ঞানের মূল বইয়ের সংজ্ঞা, বইয়ের সব ছক, বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য খুবই ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেনী বিন্যাস, রক্ত ও সঞ্চালন, মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীনতত্ত্ব ও বিবর্তন, বিশেষ করে মানবদেহ-সম্পর্কিত খুঁটিনাটি সব তথ্য বারবার পড়ো। সবসময় একদম আপডেটেড সংস্করণ পড়বে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো উদ্ভিদের বিভিন্নতা, অণুজীব, জৈবনিক প্রক্রিয়া, কোষ ও এর গঠন, কোষ রসায়ন, অনুজীব, উদ্ভীদ শরীরতত্ত্ব, জীব প্রযুক্তি, জীবের পরিবেশ বিস্তার ও সংরক্ষণ, অর্থনৈতিকভাবে উপকারী উদ্ভিদ এসব বিষয় থেকে আসে। এছাড়াও কোন বিজ্ঞানী কোন মতবাদের জন্য বিখ্যাত, কোন সূত্রটি কত সালে আবিষ্কৃত হয়েছে এসব তথ্যও নখদর্পণে থাকতে হবে।

সাধারণ বিজ্ঞানঃ শুধুমাত্র ডিপ্লোমাতে প্রশ্ন থাকবে ২৫টি। এই বিষয়গুলোর পরিক্ষার জন্য তোমার এসএসসি বোর্ড বই গুলো পড়তে পারো। এই এসএসসির বোর্ড বই থেকেই বেশিভাগ প্রশ্ন আসে। এই সব টপিকে বেশিভাগ প্রশ্ন আসে: পুষ্টি ও ভিটামিন, খাদ্য, রক্ত, রক্তচাপ ও রক্ত সঞ্চালন, মানব দেহ, বিভিন্ন রোগের কারণ ও প্রতিকার, সালোকসংশ্লেষণ, জোয়ার ভাটা, ধাতব পদার্থ ও ধাতব পদার্থ, এসিড ক্ষার ও লবণ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক খনিজ উৎস, শব্দ ও তরঙ্গ, তাপ, তড়িৎ, ইলেকট্রনিক্স, তেজস্ক্রিয়তা, জৈব যৌগ ও অজৈব যৌগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এটমের গঠন, নবায়নযোগ্য শক্তি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আলো, চুম্বকত্ব, পরাগায়ন, বায়ুমণ্ডল। এই সব টপিকের উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়ার চেস্টা করবেন। মেইন বইয়ের পাশাপাশি গাইড বইও ফলো করতে পারো। দুটো একসাথে পড়লে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হয়।

সাধারণ জ্ঞানঃ বিএসসিতে প্রশ্ন থাকবে ২০টি এবং ডিপ্লোমাতে প্রশ্ন থাকবে ২৫টি। নার্সিং এ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনেককেই দেখা যায় এই অংশটুকু হেলাফেলা করতে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যেখানে ০.১৫ নম্বরের জন্যেও তোমার সিরিয়াল শ’খানেক পিছিয়ে যেতে পারে! বাজার থেকে সাধারণ জ্ঞানের যেকোনো একটা বই কিনে নিয়ে বাংলাদেশ বিষয়াবলিটা আয়ত্ত করে নাও। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো থেকে দেখা যায় সাধারণ জ্ঞান কোন নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করছেনা। ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত সাম্প্রতিক বিশ্ব থেকে খুব কম প্রশ্ন আসে। তাই সাম্প্রতিক বিশ্ব নিয়ে খুব একটা জোড় না দিয়ে সাধারণ জ্ঞান যেমন: রাজধানী, মুদ্রা, সদরদপ্তর, ঐতিহাসিক স্থান, বিবিধ আন্তর্জাতিক ও বিবিধ বাংলাদেশ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান, পদ্মা সেতু, বাংলাদেশের নদ নদী, নদীর উৎপত্তিস্থল ও মিলনস্থল, সম্পদ, বনাঞ্চল, সীমানা, ছিটমহল, কোভিড ১৯, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্পদ, কৃষি, বস্ত্র, নোবেল পুরস্কার, রোহিঙ্গা ইস্যু, গুরুত্বপূর্ণ দিবস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী,  ভাস্কর ও ভাস্কর্য, চা, খেলাধুলা, বিভিন্ন পুরস্কার, বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সমূহ, মহাবিশ্ব, নারী ও শিশু, পাঠ, মৎস্য ও খনিজ ইত্যাদি বিষয় ভাল করে রপ্ত করতে হবে। প্রতিদিন রুটিন করে সময় বের করে নিয়ে সাধারন জ্ঞান চর্চা বাড়াতে হবে মূল পড়াশোনার পাশাপাশি।নিয়মিত জাতীয় দৈনিক গুলো পড়তে হবে। জাতীয় দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কলম দিয়ে দাগ দিয়ে নিতে হবে, নয়তো একটা নোট খাতায় লিখে নিতে হবে।

মানসিক প্রস্তুতিঃ করোনা মহামারীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত হেলথ রিলেটেড সরকারি চাকরি স্টাফ নার্স এর রেকর্ড পরিমান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আরো এক লক্ষ নতুন নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটা বাস্তবায়ন হলে পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। এই বছর নার্সিং ভর্তির আবেদন প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবেদনকারীর এতো সংখ্যা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ মূলত তোমার প্রতিযোগিতা হবে ৩০-৪০ হাজার এর সাথে! অনেকে এটাকে অবিশ্বাস্য মনে করতে পারো। এটাই বাস্তব সত্য। অনেকেই আছে শুধু পরীক্ষার দেয়ার জন্য পরীক্ষা দেয়। অনেকে আছে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। মূলত যারা একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য নার্সিং এ ভর্তি পরীক্ষা দেয় তাদের সাথেই তোমার কম্পিটিশন হবে। বাকিদেরকে তোমার কম্পিটিটর না ভাবাই ভালো। তাই বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও নেয়া উচিত। অনেকসময় অনেকে ভালো প্রস্তুতি থাকার পরেও মানসিক প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষার হলে জানা প্রশ্নের উত্তরও ভুল দাগিয়ে আসে।

আত্মবিশ্বাসী হও, যুদ্ধ জয় করো

কীভাবে তুমি এই ৩০-৪০ হাজার প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিবে অল্প সময়ে প্রস্তুতির মাধ্যমে? তোমাকে মাথায় রাখতে হবে, “আমি পরীক্ষা  দিচ্ছি সরকারি কলেজ কিংবা ইন্সটিটিউট এ ভর্তি হওয়ার জন্য”। জাস্ট এইটুকু মাথায় রাখো। প্রত্যেকের জীবনে লক্ষ্য থাকা উচিত। আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম দিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। জীবন গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকতেই হবে।  আত্মবিশ্বাসী হলে সব কাজেই জয় আসবে। জীবনে বাধা বিপত্তি এলে আত্মবিশ্বাসীরা কখনো থেমে থাকে না। তারাই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো শক্তি রাখে। আমাকে দিয়ে হবে না, নার্সিং ভর্তি অনেক কঠিন, আমি পারবো না – এ ধরণের চিন্তা ভুলেও মাথায় আনা যাবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সম্পর্কে খারাপ ধারণাগুলো পরিবর্তন করো। মনে রাখবে, কোনো মানুষই পুরোপুরি সঠিক হতে পারেন না। তাই কোনো বিষয়েই নিজেকে দোষারোপ না করে বরং ইতিবাচক চিন্তা কর। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে হলে ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যত কঠিন কাজই হোক না কেন, নিজেকে বল, ‘আমিও পারি। আমাকে দিয়েই সম্ভব, নার্সিং এর ভর্তি যুদ্ধে আমি জয়ী হবোই! তাই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত ঘুম ও সঠিক খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে হবে।

মানসিক চাপ দূর করো 

অনেকেই ভাবে চান্স না পেলে বুঝি জীবন শেষ,  চান্স না পেলে এই হবে, সেই হবে, লোকে কি বলবে – এসব চিন্তা করলে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। নিয়মের ছন্দপতন হয়। মানসিক চাপ থাকবেই। আমাদের লক্ষ্য হবে মানসিক চাপ কমিয়ে বা চাপমুক্ত হয়ে জীবন চলার পথে অগ্রসর হওয়া। চুইংগাম চিবালে মানসিক চাপ ও  দুশ্চিন্তা দুটোই কমে। এর কারণ চুইংগাম চিবানোর সময় ব্রেনে রক্ত চলাচল ঠিকভাবে হয়। ঘরের বাহিরে সময় কাটানোর ফলেও মানসিক চাপ কমে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় ঘরের কাছে হলেও কয়েক মিনিট বাহিরে সময় কাটিয়ে আসলে মানসিক চাপ কমবে এবং এতে তুমি সতেজ ও চাঙ্গা অনুভব করবে। তবে এটা যেন অভ্যাসে পরিনত না হয়। ব্রেথিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়াম মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। পড়াশোনায় মনযোগ নষ্ট হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়ামে লম্বা করে দম নাও এবং ধীরে ধীরে দম ছেড়ে দিতে হবে। অন্তত দিনে দশ বার এভাবে ব্রেথিং এক্সারসাইজ করলে মানসিক চাপ অনেক কমে যাবে। মানসিক চাপ অনুভব করলে তুমি নোট খাতায় বা কোনো স্থানে তোমার সমস্যার কথাগুলো লিখে রাখো এবং একটা সময় পর দেখবে  সমস্যার সমাধান তুমি নিজ থেকেই পেয়ে যাবে। তোমার মানসিক চাপ থাকবে না।

ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করো

আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন স্রষ্টার প্রতি প্রার্থনা আমাদের মনকে শীতল করে, মনে এক অনাবিল প্রশান্তি তৈরি করে। তার কাছে একমাত্র আমরা আমাদের সব কিছু মন খুলে বলতে পারি। এতে আমাদের মন অনেকটাই হালকা মনে হয়। মনে রাখবে, খারাপ সময় সবার জীবনে থাকে। তাই যে কোনো উপায়েই নিজেকে ভালো রাখতে হবে, নিজেকে ভালোবাসতে হবে।

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি

সফলতার জন্য ভালো জায়গায় চান্স পাওয়াটা খুবই জরুরি কিন্তু শুধু চান্স পাওয়াটাই জীবনের সার্থকতা নয়। ভাগ্য মানুষের হাতে নেই। কিন্তু পরিশ্রম করে ভাগ্যকে পরিবর্তন করা যায়। তাই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাও। একটা বিষয় তুমি যতবার পড়বে সেটা ততই তোমার মনে গেঁথে যাবে। তাই এই সময়টাকে পুরোপুরি কাজে লাগাও।

প্রতিদিন কত ঘন্টা পড়তে হবে? 

এই সময়টাতে ঘন্টার হিসেব করা উচিত নয়। যতক্ষণে তোমার পড়া শেষ না হয় ততক্ষণ পড়ো। এমন না যে তোমাকে প্রতিদিন ১২/১৪ ঘন্টা পড়তে হবে। যদি ১২-১৪ ঘন্টা পড়ার টেবিলে থেকেও তোমার কিছুই পড়া না হয়, তাহলে তো কোনো লাভই হলো না। তার চেয়ে প্রতিদিনের একটা রুটিন সাজিয়ে ফেলো যে আজকে এই চ্যাপ্টারটা পড়বো, কালকে এই টপিকটা শেষ করবো এবং এভাবে পুরো সপ্তাহে এই কয়টা বইয়ের  এতখানি শেষ করবো। এভাবে পড়লে আশা করা যায় তুমি ভালো করবে। যে সকল বিষয় গুলো মনে রাখা বেশ কষ্টের সেগুলো ছড়া, ছন্দ সাজিয়ে পড়লে এবং কঠিন বিষয়গুলো বারবার লেখার অভ্যাস করলে সহজে আয়ত্বে আসবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দাগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস করো 

বই দাগানো অনেকেরই অপছন্দ, আবার অনেকে জানে না কি দাগাতে হবে। সঠিক ভাবে বই দাগানো কিন্তু তোমার অনেক সময় বাঁচিয়ে দিবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো লাল কালি দিয়ে দাগাও, তার চেয়ে একটু কম গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো নীল কালি দিয়ে দাগাবে। যে তথ্যটি তোমার কখনো পড়া ছিলো না, তা হাইলাইটার দিয়ে দাগিয়ে নাও। আমি বুঝবো কীভাবে কোন তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ আর কোনগুলো না? প্রথমে তুমি একটা অধ্যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বে। এবার অধ্যায় শেষে যেই এমসিকিউ আছে সেগুলো ভালোভাবে খেয়াল করে সমাধান করো। বিগত সালের প্রশ্নগুলো দেখো। সেগুলো প্রথমে বইতে খোঁজ করো। সমাধান করো। সমাধান করতে যেয়ে দেখবে একই তথ্য থেকেই ঘুরেফিরে প্রশ্ন করছে। কিংবা একই টপিক থেকে একাধিক বছর প্রশ্ন এসেছে। সেগুলো লাল-নীল কালি দিয়ে বইয়ে দাগিয়ে ফেলো৷ এটা নিয়মিত অভ্যাস করো। কি কি টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে তা বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতি অংশে দেয়া আছে। প্রতি সপ্তাহে একদিন দাগানো লাইনগুলোতে চোখ বুলিয়ে নাও।

প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট

নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হলে বেশি বেশি এমসিকিউ সলভ করার বিকল্প কিছু নেই। তাই প্রয়োজন প্রশ্নব্যাংক। এমন একটি প্রশ্নব্যাংক হাতে নাও যেটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল সেশনের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন রয়েছে এবং ব্যাখ্যাসহ উত্তর রয়েছে। এক্ষেত্রে জয়কলি প্রকাশিত নার্সিং ভর্তি সহায়িকা এবং প্রশ্নব্যাংকগুলো সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়৷ প্রশ্নব্যাংক বার বার অনুশীলন করলে মুল পরীক্ষায় সময়ের সঠিক ব্যবহার করা যায়। প্রশ্নব্যাংকের সাথে মডেল টেস্ট এর অনেক বই বাজারে পাওয়া যায়। সংগ্রহ করে প্রাকটিস করো। এখন কিভাবে প্রশ্নব্যাংক সমাধান করবো? মূল বই না পড়ে শুধু প্রশ্ন সমাধান করা উচিত নয়। কারণ প্রশ্ন কখনো হুবহু প্রশ্নব্যাংক থেকে আসে না। আবার একই টপিক থেকে অনেক বেশি প্রশ্ন রিপিট হয়। টাইম ধরে নিজে নিজে বাসায় বসে আবার পরীক্ষা দাও। এরপর প্রশ্নব্যাংকে দেয়া উত্তরগুলো মিলিয়ে নাও। দেখো কয়টা সঠিক উত্তর তুমি করতে পেরছো। এরপর ভুল উত্তর গুলো শুদ্ধ করার সময় সেই সম্পর্কিত টপিক পড়ে নাও। পড়ার সাথে সাথে প্রতিটি বিষয়ের

গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো মার্ক করে ফেলো বারবার রিভিশন দাও। সাথে অনলাইন পরীক্ষা ও  মডেল টেস্ট এ অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে মডেল টেস্টে কোনো পরীক্ষায় কম নাম্বার পেলে ভেঙে পরা যাবে না। নতুন উদ্যোমে আবার শুরু করতে হবে। মডেল টেস্ট দেওয়ার পর যদি দেখো, বার বার কোনো বিষয়ে কম নাম্বার পাচ্ছো, তাহলে সেই বিষয়ে বেশি জোর দাও। যেমন, তুমি মডেল টেস্টে বাংলায় কম নাম্বার পাচ্ছো, তাহলে পরবর্তীতে বাংলায় বেশি জোর দিবে। যদি বাসায় মডেল টেস্ট দিয়ে ৮০+ বা  তারও বেশি পাও তাহলে ধরে নাও তোমার নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো। যদি বাসায় ৮০ এর কম পাও তাহলে ধরে নিবে তোমার প্রস্তুতি আরো ভালো করে করতে হবে। কেননা, বাসার পরিবেশ আর পরীক্ষার হলে পরিবেশ এক নয়। তাই বাসায় একটু বেশি নাম্বার পেতে হবে। সম্ভব হলে পাশাপাশি বিভিন্ন কোচিং এর মডেল টেস্ট গুলোতে অংশ নাও। পাশাপাশি ঢাবি, জাবি ও অন্যান্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত দশ বছরের প্রশ্ন সলভ করতে হবে। ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের জন্য বিগত কয়েক বছরের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলোও দেখতে হবে।

শেষ সময়ের প্রস্তুতি

বিষয়ভিত্তিক একবার রিভিশন শেষে দ্বিতীয় রিভিশন শুরু করো। ভর্তি পরীক্ষার আগে পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়াটা খুব জরুরি। যদি ভালো প্রিপারেশন নিতে হয়, দৈনিক কমপক্ষে ১০-১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়ে সিলেবাস শেষ করে ফেলতে হবে। টেক্সট বইয়ের দাগানো টপিকগুলো রুটিন করে পড়তে থাকো। তুমি কোন বিষয়ে ভালো আর কোথায় তোমার দুর্বলতা, সেটা তো তুমিই সবচেয়ে ভালো জানো। একেকজনের পড়ার কৌশল একেক রকম। তোমার পড়ার কৌশল মেনে তোমার পরিকল্পনা করা উচিত। কারো সাথে প্রতিযোগীতা করে পড়ার সময় নির্ধারণ করো না। গতকালের তুমির সাথে আজকের তোমার প্রতিযোগীতা হবে। অনেকে পড়ার সাথে লিখে লিখে চর্চা করে। এতে পড়া মাথায় ঢুকে যায় খুব তাড়াতাড়ী। এই পদ্ধতি অনুসরন করতে পারো। তুমি যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করো সেভাবেই পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাও।

পরীক্ষার আগের দিন 

পরীক্ষার ঠিক আগের দিনটিতে রিলাক্স মুডে থাকতে হবে। বেশী পড়াশোনা করে চাপ নেয়া যাবে না। নিজের সিট কোথায় পড়লো সেটা একবার দেখে আসাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ পরীক্ষার দিন সকালে তাহলে আর তাড়াহুড়ো করতে হবে না। পরীক্ষার দিন মাথা ঠান্ডা রাখা খুবই জরুরি। কেননা এসময় এমনিতেই অনেক প্রেশার থাকে, তাই মাথা ঠান্ডা না রাখলে পড়া মনে রাখতে ঝামেলা হতে পারে। এসময় কিছুটা একা থেকে নিজের জন্য সময় দেয়া উচিত। কোনো কিছুতেই হাইপার হওয়া যাবে না, কোনো স্ট্রেস নেওয়া যাবে না।  সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। কারো সাথে মনোমালিন্য করা যাবে না। এরকম করলে ঐ বিষয়গুলোই মাথায় ঘুরপাক খায় যার প্রভাব নিজের উপর পড়ে। ফলে রেজাল্ট খারাপ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

পরীক্ষার দিন যা যা করনীয়ঃ

 পরীক্ষার আগে জেনে নাও তোমার সেন্টার কোথায়।

 পরীক্ষার দিন হলে ঢুকে প্রথমেই নিজের রোল মিলিয়ে বেঞ্চ খুঁজে নাও।

 এরপর ধীর-স্থির হয়ে বসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন কলম, পেনসিল, ইরেজার, প্রবেশপত্র টেবিলে রাখো।

 আশে পাশে কারো সাথে পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে আলাপের প্রয়োজন নাই।

 পরীক্ষক উত্তরপত্র দেওয়ার পর সাবধানে নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণ করতে হবে।

 কোনো অবস্থাতেই যেন ওএমআর ফরমের নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণে ভুল না হয়।

 উত্তর পত্র নিজের নাম, রোল নাম্বার, বিভাগ ও স্বাক্ষর এ যাতে ভুল না হয়।

 অনেকে প্রশ্ন হাতে নিয়ে আগে প্রশ্ন পড়া শুরু করে। এটা কখনো উচিত নয়। এতে সময় নষ্ট হয়। নিয়ম হলো প্রশ্ন পড়ার সাথে সাথে ওএমআর ফরমে উত্তরের বৃত্ত ভরাট করা।

 প্রশ্নপত্রে প্রথমে যেগুলোর উত্তর শতভাগ নিশ্চিত সেগুলো আগে দাগিয়ে ফেলো।

 এভাবে প্রথম ৩০ মিনিটে ৫৮-৬০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে।

 পরের ২০ মিনিটে বাকি ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

 শেষ ৮-১০ মিনিট রিভিশন এবং উত্তর না দেওয়া প্রশ্নগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে।

 কোনো একটি প্রশ্ন না পারলে সেটির পেছনে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।

নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার এমসিকিউতে সবসময় একটা সঠিক উত্তর থাকে। সঠিক উত্তরই বৃত্ত ভরাট করতে হবে পূর্ণ নম্বর প্রাপ্তির জন্য। ভুল উত্তরের জন্য কোন নেগেটিভ মার্কিং হয় না। যদি ষাটটা মিনিট মাথা ঠাণ্ডা রেখে সব উত্তর করে আসতে পারো, তাহলে তোমার চান্স সুনিশ্চিত। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।

Eadmin

Related post