ঘেরাটোপেই কি বন্দী থাকবে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ !

একটি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে যেটি বোঝা গেল, আসলে এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মর্কতাদের অদক্ষতা আর অবহেলাই দায়ী।

যেসব অভিযোগ উঠছে

অনেকটা আকস্মিকভাবে গত রোববার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির (বিএমটি) একাদশ শ্রেণির বাংলা-১ (নতুন ও পুরোনো পাঠ্যসূচি)-এর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর কারণ খুঁজতে গেলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র করা হয়ে গেছে পুরোনো পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে, আর পুরোনো শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র করা হয়েছে নতুন পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। ফলে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এর মানে এখানে অদক্ষতার বিষয়টি পরিষ্কার। কারণ, নানা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে প্রশ্নপত্র ছাপা হয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। তখন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন ভুলের কারণে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র চলে গিয়েছিল। এ কারণে শুধু যশোর বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

৬ বিষয়ের এসএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস, কেন্দ্রসচিবই জড়িত

এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। এ কারণে চারটি বিষয়ের (গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা ও রসায়ন) পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে গ্রহণ করা হয়। আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বাকি দুই বিষয়ের (উচ্চতর গণিত ও জীববিদ্যা) পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে নির্ধারিত সময়েই নেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি একজন কেন্দ্রসচিব, যাঁর দায়িত্ব হলো নিরাপদে প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। ফলে দিনাজপুর বোর্ডের অধীন প্রায় পৌনে দুই লাখ পরীক্ষার্থীকে সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ, তাদের পরিবর্তিত সময়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে চার বিষয়ে।

এসব অভিযোগ ছাড়াও প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে অদক্ষতার অভিযোগ উঠছে। যেমন এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক বিষয়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে আজ সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেছেন, এ প্রশ্ন কোন সেট, কোন মডারেটর করেছেন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারিগরি বোর্ডের একটি পরীক্ষা স্থগিত

প্রশ্ন হচ্ছে, এসব পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে এত প্রস্তুতির কথা বলার পরও কেন বারবার বিভিন্ন রকমের বিতর্কিত ঘটনা ঘটছে? বিতর্কমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা আমরা কবে পাব? নাকি সেই পুরানো সমস্যাগুলোর ঘেরাটোপেই বন্দী থাকবে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গতিপথ ঠিক করে দেওয়ার এসব পাবলিক পরীক্ষা।

এ বিষয়ে কথা হয়, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খানের সঙ্গে। তাঁর সার কথা হলো, এখানে দুটি কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

একটি হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতার অভাব এবং আরেকটি হলো অবহেলাজনিত। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই পদায়ন করা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায় বা তদবিরের মাধ্যমে। এ সংস্কৃতি খুবই ক্ষতি করছে। এতে যে কর্মকর্তাকে যেখানে পদায়ন করা হচ্ছে, তিনি সেখানকার জন্য যোগ্য কি না, তা দেখা হয় না। আর এর ফলে সর্বোপরি ক্ষতিটি হয় শিক্ষার্থীদের। তাঁর মতে, সবকিছুতেই দলীয়করণ বা তদবিরে পদায়ন করা ঠিক না। দক্ষ, সৎ ও যোগ্য লোকদের সঠিক জায়গায় পদায়ন করতে হবে।

Eadmin

Related post