কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি পরবর্তী ভবিষ্যৎ কেমন?

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা ২০২৩-২৪ সালের সার্কুলারে এসএসসি এবং এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জীববিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন ও গণিত বিষয়সহ উত্তীর্ণ হয়েছেন তারাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারছেন। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় উভয় ক্ষেত্রে প্রতিটিতে চতুর্থ বিষয় ছাড়া ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ ৮.৫০ থাকতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১৫০ নম্বরের ওপর ফলাফল প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয় এবং চতুর্থ বিষয় ব্যতীত এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর ২৫ নম্বর ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর ২৫ নম্বর থাকে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় মান বণ্টন- গণিতে-২০, পদার্থে-২০, রসায়নে-২০, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে-১৫, প্রাণীবিজ্ঞানে-১৫, ইংরেজিতে-১০।May be an image of text

কৃষি অনুষদের অধীন মোট ১৬টি বিষয় পড়ানো হয়। এর মধ্যে মেজর বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো। ‘গ্রোনমি’তে বিভিন্ন মাঠ ফসলের উৎপাদন কৌশল পড়ানো হয়। ‘সয়েল সায়েন্সে’ মাটির প্রকারভেদ, গঠন, মাটির স্বাস্থ্য ও পিএইচ নিয়ে পড়ানো হয়। ‘হর্টিকালচারে’ ফুল, ফল, শাকসবজি, চারা উৎপাদন কৌশল, ‘প্লান্ট প্যাথোলজি’তে বিভিন্ন ফসলের রোগ নির্ণয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ, ‘এন্টোমলজি’তে বিভিন্ন ফসলে পোকার আক্রমণ ও দমন ব্যবস্থা, ‘জেনেটিক্স ও প্লান্ট ব্রিডিং’-এ উদ্ভিদের প্রজনন ও বংশবিস্তার, ‘ক্রপ বোটানি’তে উদ্ভিদের মরফোলজি, ‘কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগে’ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে নতুন জাত এবং আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায় এবং ‘এগ্রোফরেস্ট্রিতে’ কৃষি বনায়ন পড়ানো হয়। এ ছাড়া এগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি, এগ্রিকালচারাল ইকোনোমিকস, এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস, বায়োটেকনোলজি, ফার্ম মেকানিকস এবং সোশিওলজি কোর্স রয়েছে।

চাকরির সুযোগ

টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর মধ্যে কৃষিতে পড়াশোনা করলে একটু বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ। আছে বিসিএস জেনারেল ক্যাডারে চাকরির সুযোগ। টেকনিক্যাল ক্যাডার বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে শুধু যারা কৃষিতে অনার্স করেছে তারাই আবেদন করতে পারেন।

প্রতি বিসিএসেই কৃষি ক্যাডারে পদ থাকে। বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ‘কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার’ পদে জয়েন করেন। এ ছাড়া বিসিএস থেকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে কৃষিতে প্রভাষক পদেও নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ আছে।

কৃষিতে পড়াশোনা করে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাকরির সুযোগ আছে। যেমন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। এ ছাড়া বাংলাদেশের সব সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকেও কৃষিবিদরা চাকরি করেন।

কৃষিতে পড়াশোনা করলে দেশের অনেক কীটনাশক ও বীজ কোম্পানিতে চাকরি করার সুযোগ আছে। চাকরির পাশাপাশি কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ারও সুযোগ আছে। এ ছাড়াও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন এনজিওতে চাকরির ক্ষেত্রে কৃষিবিদদের সুযোগ বেশি। পাশাপাশি এনএসটি ফেলোশিপ ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পাওয়া এবং এগ্রিকালচারাল ইমপোরটেন্ট পারসন হওয়ারও সুযোগ আছে কৃষিবিদদের।

May be an image of children's toy and text

পড়ার খরচ

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ অনেক কম। পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি বাবদ কিছু টাকা লাগে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অথবা হোস্টেলে থাকার সুযোগ হলে খরচ কমে আসে। খাওয়া-দাওয়া, বই, খাতা, কলম, ফটোকপি ইত্যাদি বাবদও কিছু খরচ হয়। অন্যদিকে বেসরকারিতে এসব খরচ স্বভাবতই বেশি হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা

কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করে দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। স্কলারশিপ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, কানাডা, মালয়েশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।

কৃষিবিদদের প্রয়োজনীয়তা

প্রতিনিয়ত আবাদি জমি কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় এই দেশে বিভিন্ন ফসলের নতুন জাত এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণে কৃষিবিদদের প্রয়োজনীয়তা অনেক। মানব জাতির অস্তিত্বের স্বার্থেই জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলা করে প্রতি ইঞ্চি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে, খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি এবং কৃষিবিদদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

লেখক: ৩৬তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, মোহনপুর, রাজশাহী

অনুলিখন: আনিসুল ইসলাম নাঈম

Eadmin

Related post