অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিবারের মধ্যে মাত্র ১০ টাকায় প্রয়োজনীয় ঈদ বাজারের ব্যবস্থা করেছেন একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী

ঈদ আসে ত্যাগ, মহিমা আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে। সবার মধ্যে ঈদের আনন্দকে ছড়িয়ে দিতে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী। মাত্র ১০ টাকায় প্রয়োজনীয় ঈদ বাজারের ব্যবস্থা করেছেন তারা। উদ্যোক্তারা বলছেন, সবার মধ্যে ঈদের আনন্দ পৌঁছিয়ে দিতে এমন আয়োজন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিবারের মধ্যে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ১০টাকায় ঈদ বাজার কর্মসূচির আয়োজন করেছে ববিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন শিক্ষার্থী ও সমাজউন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

১৭ এপ্রিল (সোমবার) বিকেল ৪টায় লজিক একাডেমির চতুর্থ শাখায় বরিশাল নগরীর আমতলায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ১৬টি পরিবারের  মধ্যে এই ঈদ বাজার বিতরণ করা হয়। লজিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের বেতনের একটা অংশ, কয়েকজন উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতায় এই ঈদ বাজার দেওয়া হয়েছে।

ঈদ আনন্দ ধনী-গরীব সবার সমান। চড়া বাজারে অসচ্ছল পরিবারের কর্তার মুখে চিন্তার ছাপ ফুটে উঠে ঈদ বাজার নিয়ে। এই চিন্তায়ই ঈদ আনন্দ হয়ে যায় মাটি। তাই এই অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শিক্ষার্থীদেরই জমানো ১০ টাকায় ঈদের বাজারের সুযোগ দিয়েছে সংগঠনটি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি গাজী হাদিউজ্জামান, সহসভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার মোহনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল, সদস্য সুজনসহ অন্যান্যরা।

১০ টাকার ঈদ বাজারে সামগ্রী হিসেবে ছিল এক লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি মুরগি, এক প্যাকেট সেমাই, এক প্যাকেট গুড়া দুধ, এক কেজি চিনি, এক কেজি আলু ও এক কেজি কাটারিভোগ চাল।

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার মোহনা বলেন, ‘এটা এক মহৎ উদ্যোগ। এভাবে চালিয়ে যেতে থাকলে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অনেক বড় উপকার হবে।’

একজন শিক্ষার্থী তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘জীবনের প্রথম ১০ টাকায় ঈদ বাজার করেছি, তাও নিজের টাকায়। খুব ভালো লাগছে। এবারের ঈদটা পরিবারের আনন্দে কাটবে।’

শিক্ষার্থী ও সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ববি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী গাজী হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মানুষ দান নিতে গেলে নিজেকে কিছুটা ছোট মনে করে। এই জায়গা থেকে উঠে এসে নিজের টাকায় ঈদ বাজার করা এক অন্যরকম আত্মতৃপ্তি। যারা অসচ্ছল তারা অন্যের দানের আশায় না বসে কম টাকায় বাজার করবে। তবুও সন্তানকে বলতে হবে না বাবা এটা দানের জিনিস। বলতে পারবে এটা টাকা দিয়ে কেনা বাজার। এমনই ১৬ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ টাকায় পুরো ঈদের বাজার দেওয়া হয়। তারা জীবনের প্রথমে এতো কমে টাকায় এতো বাজার পাওয়ায় তারা খুবই খুশি। আর সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কাছে এটুকুই বড় পাওয়া।’

Eadmin

Related post