অন্যরকম ঘটনাঃ গণিত পড়ানো হয় না যে সরকারি কলেজে

কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী জানায়, তারা গণিত বিষয়ে আগ্রহী হলেও ক্লাস না হওয়ায় আবশ্যিক বিষয় হিসেবে রাখেনি। পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নিতে হয় জীববিজ্ঞান। চতুর্থ বিষয় (ঐচ্ছিক) হিসেবে নিতে হয় উচ্চতর গণিত। পরিসংখ্যান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কেউ নেয় না। তবে চতুর্থ বিষয় হিসেবে কৃষিশিক্ষা, ভূগোল, মনোবিজ্ঞান ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় নেওয়ার সুযোগ তাদের কলেজে নেই।

বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘গণিত বিষয়ে পাঠদান কখনো হয়নি। বাইরের শিক্ষকের কাছে গণিত পড়ছি।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। ফলে বাইরের শিক্ষকের কাছে পড়ার সামর্থ্য অনেকেরই নেই।

তবে শুরু থেকেই এই কলেজে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য ১৮ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৪ জন। গণিতসহ চারটি বিষয়ে শিক্ষক নেই। পদার্থবিজ্ঞান ও পৌরনীতির দুই শিক্ষক রয়েছেন প্রশিক্ষণে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। শিক্ষকস্বল্পতা থাকায় তিন বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন মেলেনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ কারণে জেলার নারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এখানকার শিক্ষার্থীরা গণিত না পড়েই উচ্চমাধ্যমিক শেষ করছে উল্লেখ করে শাহ আলমগীর বলেন, চতুর্থ বিষয় হিসেবে গণিত নিলেও কেউ এতে গুরুত্ব দেয় না। বাইরে পড়াশোনা করে হাতে গোনা কয়েকজন পাস করে।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্রনাথ প্রথম আলোকে বলেন, গণিত এমন বিষয়, যা অন্য বিভাগের কেউ পড়াতে পারেন না। শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নজর দেওয়া উচিত।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গণিত শিক্ষক না থাকায় কলেজে তিনটি বিভাগের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এই কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মানবিকে ৪৪০ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৬ জন ও বিজ্ঞান বিভাগে ৪০ জন ছাত্রী রয়েছেন। ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৬১০ পরীক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজে বিভাগভিত্তিক পাসের হারে সব সময় পিছিয়ে থাকে বিজ্ঞান বিভাগ। ২০১৮ সালে মানবিক বিভাগে যেখানে পাসের হার ছিল ৬১ শতাংশ, সেখানে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ শতাংশ। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ হার ছিল ৪৭ শতাংশ। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালেও বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ।

Eadmin

Related post