উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও সংকট

উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও সংকট

পুরো শিক্ষাব্যবস্থা তো বটেই, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও এবার নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে করোনা। পরীক্ষা ছাড়াই এবার বিশেষ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে দুই পাবলিক পরীক্ষার গড় ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের। ঘাটতি থাকলেও মহামারির বাস্তবতায় এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত শিক্ষাবিদদের। দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ ফলাফল ঠেকাতে করোনাকালের বিড়ম্বনায় পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর উচ্চশিক্ষা। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করা একজন শিক্ষার্থীর জীবন গড়তে পা পড়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এক যুগের পরিশ্রমে দেশসেরা বিদ্যাপীঠে নিজের একটি আসন দখলে ঝাঁপিয়ে পড়ে লাখো শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণহীন

এবার বাস্তবতা ভিন্ন। মহামারিতে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। জেএসসি এবং এসএসসির গড় ফলাফলে ভিত্তিতে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেওয়া হবে এইচএসসির রেজাল্ট। কিন্তু এক বছরের ঘাটতি নিয়ে প্রবেশ করা উচ্চশিক্ষার জীবনটা কেমন হবে? এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেক শিক্ষার্থী।

সাদিয়া জাহান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ফলাফল সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। এ জন্য পুরোটাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

যদিও এরই মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। নিজস্ব ও ইউজিসির ঘোষিত গুচ্ছ পদ্ধতিতে নেবে ভর্তি পরীক্ষা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নীতিগতভাবে একমত থাকলেও এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। এখনো চূড়ান্ত হয়নি জাতীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত। আর মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়ে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে; তারা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার জন্য যথেষ্ট তৈরি না।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, মহামারিকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে উচ্চশিক্ষায় যোগ্যতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিতে হবে পাঠদানের বিশেষ ব্যবস্থা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একজন ছাত্র যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে যাবেন, সে সময়ে আমরা যেন বলতে না পারি তার এসএইচসি পরীক্ষায় ঘাটতি ছিল, এ ঘাটতি নিয়ে সে বের হয়ে যাচ্ছে, এ জন্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ নজর দিতে হবে।

ইউজিসির তথ্যমতে, দেশের ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর ভর্তি হয় ৫০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী আর ৯১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী।

Leave a Comment