অন্ধত্বকে জয় করে হরিবোল বোনার্জির এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫

 অন্ধত্বকে জয় করে হরিবোল বোনার্জির এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫

জন্ম থেকেই অন্ধ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র হরিবল বোনার্জি। সে একজন চা শ্রমিকও। শারিরীক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সামাজিক অবস্থানের কারণে শুরু থেকেই নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু অন্ধত্ব কিংবা সামাজিক অবস্থান কোনোকিছুই দমাতে পারেনি তাকে। বরং অন্ধত্বকে জয় করে হরিবোল বোনার্জি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করেছে।

সবকিছু এড়িয়ে হরিবোলের এই অর্জন তাই মন ছুঁয়েছে জেলার সকলের। এমন জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে তৃপ্ত শিক্ষকরাও। কারণ, নিজের মনোবলের পাশাপাশি হরিবোলকে পাশে থেকে সহায়তা করেছেন তার শিক্ষকরাও।

এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল হরিবোল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করে সে।

হরিবল বোনার্জির (১৭) বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের হুগলিছড়া চা বাগানে। বাবা অনিল বোনার্জি এবং মা বিশখা বোনার্জি দুজনেই চা শ্রমিক।

অভাব আর টানাপোড়নের মাঝে হরিবোলের পড়ালেখা শুরু হয়েছিলো এনজিও ব্রাকের স্কুল থেকে। লেখাপড়ায় অদম্য হরিবোল সেখান থেকেই পিএসসিতে ভালো ফলাফল পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলে হরিবলের থাকার জায়গা হয় বিদ্যালয়ের পাশেই মৌলভীবাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাসের আবাসিক হোস্টেলে। আজ নিজের এমন অর্জনে নিজেও কিছুটা হতভম্ব অন্ধ হরিবোল বোনার্জি।

হরিবল বলে, আমি এতোটা দূর আসতে পারবো ভাবিনি। তবে আমার পড়াশোনার আগ্রহ বেড়ে যায় আমি যখন পিএসসি পরীক্ষা দেই। সেই পরীক্ষায় আমি জিপিএ ৪.৮৩ অর্জন করি। ভর্তি হই মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে।

অন্ধ হরিবোল বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের পিছিয়ে পড়া চা শ্রমিকদের বিনামূল্যে পড়িয়েছি। করোনার সময়ে স্কুল যখন বন্ধ ছিল তখন আমার গ্রামের শিক্ষার্থীদের একসাথে নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। পড়ালেখার জন্য আসলে দিনে একটানা দশ ঘন্টা পড়তে হয় না। মনযোগ দিয়ে কয়েকঘন্টা পড়লেই হয়।

তিনি বলেন, পরীক্ষার হলেও আমার অন্যান্য সাধারণ ছাত্রদের সাথে পরীক্ষা দিয়েছি। শুধুমাত্র আমার সহযোগী হিসেবে অষ্টম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ছিল। আমি বলে বলে দিয়েছি আর সে লিখে লিখে দিয়েছে।

নিজের গায়ক হওয়ার ইচ্ছে ছিল এমন স্বপ্নের কথা জানিয়ে হরিবোল বলেন, অনেকটা পথও এগিয়েছিলাম। কিন্তু আর গায়ক হয়ে উঠা হয়নি। এখন একজন সমাজকর্মী ও শিক্ষক হতে চাই।

এদিকে হরিবোল বোনার্জির এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খ. ম ফারুক আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের একজন অন্ধ ছাত্র হরিবল বোনার্জি এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে গরীব পরিবারের সন্তান। অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করে এই ফলাফল অর্জন করেছে। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি। আশাকরি সে তার জীবনে সফল হবে।

Eadmin

Related post