অনুপ্রেরণাঃ শ্রমে ঘামে এসএসসি পাশ করলেন তারা

 অনুপ্রেরণাঃ শ্রমে ঘামে এসএসসি পাশ করলেন তারা

প্রসেনজিৎ দাস বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে এবং বিদ্যালয় ছুটির পরে ভ্যান চালাতো। পড়াশোনার ফাঁকে ভ্যান চালানোর মত কঠিন কাজ করে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে। মানবিক বিভাগে পড়ুয়া প্রসেনজিৎ এর ফলাফল জিপিএ–৩.৫৬।

বিজ্ঞান বিভাগের আর এক শিক্ষার্থী মিতু ইয়াসমিন জিপিএ– ৪.৫০ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। মিতু পড়াশোনার ফাঁকে বাবার হোটেলের কাজে সহযোগিতা করত। প্রসেনজিৎ ও মিতুর মতো এরকম ২৭ জন শিক্ষার্থী প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাঠশালাটির শতভাগ শিক্ষার্থী  উত্তীর্ণ হয়েছে আর  মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেছে ১৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দশ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পেয়েছে এ গ্রেড। বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী  নুপুর আক্তার ও মোবাশ্বের আলী পাঠশালাটির মধ্যে সর্বোচ্চ  ফলাফল জিপিএ–৪.৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল গুড়িহারী গ্রামে অবস্থিত পাঠশালাটির এরকম ফলাফলে উচ্ছ্বসিত অভিভাবকেরা। প্রসেনজিৎ এর বাবা খিটিশ রবি দাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁর মা নিশো বালা ছেলের ফলাফলে দারুন খুশি, তিনি বলেন ‘প্রথমে যখন শুননু আমার ছেলে পাস করিছে, হামি বিশ্বাস করতে পারছুনু না। ঘাম ঝরায় হামার ছেলে পাস দিছে। ভ্যান চালা খুব খাটুনির কাজ। হামার স্বামী অসুস্থ। প্রসেনজিৎ কোন দিন স্কুল যাওয়ার পাইছে। কোনদিন পায় নাই। হামি আলোর পাঠশালার মাস্টারদের ধন্যবাদ জানাই।’

Eadmin

Related post